আরও খবর

News Photocard (15)
প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন
News Photocard (3)
দুপুরের মধ্যে দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
News Photocard
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ২২ মামলা, ২৭৫ আসামির ২০৪ জনই পলাতক
News Photocard (30)
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
News Photocard (21)
মাদক নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তারাই জড়াচ্ছেন মাদক কারবারে

ভোটের কালির মুছে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তার কথা রেখেছেনঃ আইনমন্ত্রী

ভোটের কালির মুছে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ১১ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও ইমাম ভাতা প্রকল্পে নতুন বার্তা।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনের পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘উন্নয়ন সংলাপ : কেমন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই প্রায় ১১ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একইসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমামদের মাসিক ভাতার পাইলট প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স ফোরামের আয়োজিত এ সংলাপে সরকারের উন্নয়ন অঙ্গীকার, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে তিনি সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

উন্নয়ন সংলাপে কৃষি ঋণ মওকুফের প্রসঙ্গ

আইনমন্ত্রী বলেন,

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই প্রায় ১১ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই ৩৮ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি কার্ড উদ্বোধন এবং ঈদের আগেই ইমামদের জন্য মাসিক ভাতার পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের তৎপরতা দৃশ্যমান এবং এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার

সংলাপে আইনমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড সমাজ পরিবর্তনের জন্য “বিপ্লবী অঙ্গীকার”। তিনি এই উদ্যোগগুলোকে সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তার বক্তব্যে খাল খনন কর্মসূচির কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে গভীর নলকূপনির্ভর পানি উত্তোলন কমবে, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং মাছ চাষের সুযোগ বাড়বে।

দুই পাশে গাছ লাগানোর প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এটিকে টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এই ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনা উন্নত বাংলাদেশের পথে ভূমিকা রাখতে পারে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনায় কী উঠে এলো

‘কেমন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক সংলাপে শুধু জাতীয় প্রকল্প নয়, আঞ্চলিক উন্নয়ন ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

সংগঠনটির সভাপতি ও সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে গেস্ট অব অনার ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

এ সময় কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তার বক্তব্যে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং উন্নয়ন সুবিধা নিশ্চিত করার বার্তা স্পষ্ট হয়।

দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান

রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চায়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টে বিদ্যুৎ সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতার উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্য রাখা হয়েছে।

এই উদাহরণ টেনে তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

উন্নয়ন, মতপার্থক্য ও ঐক্যের বার্তা

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ আদর্শিকভাবে থাকবে, মতপার্থক্যও থাকবে। তবে উন্নয়ন প্রশ্নে চিন্তার ঐক্য থাকতে হবে।

তার বক্তব্যে হানাহানি ও রক্তপাতের প্রসঙ্গ এলেও মূল জোর ছিল উন্নয়ন-ভিত্তিক সহযোগিতার ওপর। তিনি বলেন, মানুষের উন্নয়নকে সামনে রেখে পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে।

এ বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে পৃথকভাবে দেখার আহ্বানও প্রতিফলিত হয়।

কৃষক, পরিবার ও ধর্মীয় সহায়তা—একই কাঠামোয় বার্তা

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ইমাম ভাতা—এই চারটি উপাদানকে একই বক্তব্যে আনা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত বার্তা বহন করে।

বিশেষ করে কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফের বিষয়টি সরাসরি অর্থনৈতিক স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়, আর ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তারের দিক নির্দেশ করে।

ইমামদের জন্য মাসিক ভাতার পাইলট প্রকল্পের উল্লেখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়টিকেও আলোচনায় এনেছে।

আঞ্চলিক উন্নয়ন সংলাপ কেন গুরুত্বপূর্ণ

এ ধরনের সংলাপকে অনেকেই নীতিনির্ধারণী মতবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন। কুষ্টিয়া অঞ্চলে আয়োজিত এ আলোচনা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় আসা সংলাপটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

সর্বাধিক পঠিত