এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (33)
অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের কারাদণ্ড: ১০ বছরের
Shikor Web Image (27)
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭ বাংলাদেশি নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
Shikor Web Image (11)
সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা: ভোট ১২ মে (ইসি)
Shikor Web Image (8)
আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ: রুমিন ফারহানা
Shikor Web Image (6)
অফিস ফেলে জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫ জনকে দণ্ড দিয়েছে। বিস্তারিত বিচার ও আসামির তথ্য জানুন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী Abu Sayeed হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর একটি বিচারিক প্যানেল এই আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায় ঘোষণা করে।

এই রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মোট পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়: কী সিদ্ধান্ত দিল ট্রাইব্যুনাল

International Crimes Tribunal-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে রায় ঘোষণা শুরু হয় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এই আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায় অনুযায়ী—

  • দুইজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
  • তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
  • অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারা

এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন—

  • পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন
  • সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়

তারা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায় অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন—

  • মো. আরিফুজ্জামান (সাবেক সহকারী কমিশনার, পুলিশ)
  • রবিউল ইসলাম (সাবেক পরিদর্শক, নিরস্ত্র)
  • বিভূতিভূষণ রায় (সাবেক উপপরিদর্শক, নিরস্ত্র)

তবে এই তিনজন পলাতক রয়েছেন।

মামলার আসামি ও বর্তমান অবস্থা

এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে—

  • ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন
  • ২৪ জন পলাতক

গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, এবং আরও কয়েকজন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

পলাতক আসামিদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা এবং ছাত্রসংগঠনের নেতারা রয়েছেন।

রায় ঘোষণার প্রেক্ষাপট ও বিচার প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এরপর ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত শুরু হয়।

  • ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়
  • ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়
  • ২৭ আগস্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়
  • ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়
  • ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হয়

এর ধারাবাহিকতায় ৯ এপ্রিল চূড়ান্ত আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায় ঘোষণা করা হয়।

বিচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া এবং বিপুল সংখ্যক সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হয়, যা এই মামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত মানবতাবিরোধী মামলায় পরিণত করেছে।

মামলার গুরুত্ব ও প্রভাব

এই আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায় দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ধরনের মামলার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সর্বাধিক পঠিত