এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (5)
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি
News Photocard (30)
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-ফেনীসহ যেসব জায়গা থেকে ওঠা যাবে কক্সবাজারগামী ট্রেনে
News Photocard (12)
সৌদি আরবগামী যাত্রী ও সব এয়ারলাইনসের জন্য জরুরি বার্তা বেবিচকের
News Photocard
নবম-দশমের বই ছাপায় ধীরগতি, নজরদারিতে ২৬ প্রেস
News Photocard
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‌‘সোলার প্ল্যান্ট’ বসানো হবেঃ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‌‘সোলার প্ল্যান্ট’ বসানো হবে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য, নতুন শিক্ষানীতি উদ্যোগ।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষাখাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন,

দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না।

তার ভাষায়, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যয়ের চাপ কমানো এবং টেকসই শক্তি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।

২০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে সৌর প্রকল্প উদ্বোধন

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ৬০০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অন-গ্রিড ওপেক্স মডেল’ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

এই প্রকল্পটি নেট জিরো ক্যাম্পাস গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট: শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের অংশ

শুধু বিদ্যুৎ নয়, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনেও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যমান জট নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ বছরের মধ্যে এসএসসি এবং ১২ বছরের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে বৈঠক

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস যথাযথভাবে সম্পন্ন করে কীভাবে সময় নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্য

সরকার দেশের উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তার মতে, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কলেজের বোর্ড অব গভর্নরসের সভাপতি আবদুল খালেক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন, ওমেরা রিনিউবেল এনার্জি লিমিটেডের প্রতিনিধি, উপাধ্যক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের এই উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থার সময়সূচি সংস্কার—দুই দিক থেকেই সরকারের এই পরিকল্পনা একটি সমন্বিত উন্নয়ন কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

যদি পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি দেশের শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত