হৃদস্পন্দন শনাক্ত করে ইরানে নিখোঁজ সেই পাইলটকে উদ্ধার —ঘটনাটি ঘিরে উঠে এসেছে নতুন তথ্য।
দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করতে সিআইএর গোপন প্রযুক্তি গোস্ট মারমার ব্যবহার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র। হোয়াইট হাউসে ব্রিফিংয়ের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন, যা মূলত দূর থেকে হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে সক্ষম।
কী এই ‘গোস্ট মারমার’ প্রযুক্তি?
কোয়ান্টাম প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত
সিআইএর গোপন প্রযুক্তি গোস্ট মারমার মূলত কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের হৃদস্পন্দন থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় সংকেত দূর থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব।
এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), যা আশপাশের বিভিন্ন শব্দ বা সংকেতের ভিড় থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
একটি সূত্রের ভাষায়, “এটা যেন হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে একটি নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বর শোনার মতো—তবে এখানে পুরো একটি মরুভূমি জুড়ে সেই অনুসন্ধান চলে।”
প্রথমবার মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার

এই ঘটনাই ছিল সিআইএর জন্য সিআইএর গোপন প্রযুক্তি গোস্ট মারমার-এর প্রথম বাস্তব প্রয়োগ। যন্ত্রটি তৈরি করেছে লকহিড মার্টিনের গোপন উন্নয়ন বিভাগ ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’। যদিও এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র মতে, এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিখোঁজ পাইলট ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’র ঘটনা
গত সপ্তাহের শেষ দিকে ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে পরিচিত এক মার্কিন পাইলটের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইরানে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এরপর তিনি একটি পাহাড়ের ফাটলে লুকিয়ে পড়েন।
দুই দিন ধরে জনমানবহীন কঠিন ভূখণ্ডে টিকে থাকা এই পাইলটকে খুঁজে বের করতে ইরানি বাহিনীও অভিযান চালায় এবং তার মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
আদর্শ পরিবেশে প্রযুক্তির সফলতা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই মরুভূমি অঞ্চলটি সিআইএর গোপন প্রযুক্তি গোস্ট মারমার ব্যবহারের জন্য প্রায় আদর্শ ছিল।
কারণ:
- তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ খুব কম ছিল
- অন্য মানুষের উপস্থিতি প্রায় ছিল না
- রাতে শরীর ও পরিবেশের তাপমাত্রার পার্থক্য স্পষ্ট ছিল
এই সব কারণে যন্ত্রটি সহজেই নির্দিষ্ট হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে পেরেছে।
ম্যাগনেটোমিটার ও প্রযুক্তির ব্যাখ্যা
ম্যাগনেটোমিটার এমন একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি ও পরিবর্তন পরিমাপ করে। সাধারণত এটি ব্যবহৃত হয়:
- ভূ-ভৌতিক জরিপে
- খনিজ অনুসন্ধানে
- নেভিগেশন সিস্টেমে (কম্পাস হিসেবে)
তবে এই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে এখন অনেক দূর থেকে মানুষের হৃদস্পন্দনের সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
বীকন বনাম ‘গোস্ট মারমার’
নিখোঁজ পাইলট একটি কমব্যাট সারভাইভার লোকেটর বীকন চালু করেছিলেন, যা তার অবস্থান সংকেত পাঠায়। কিন্তু সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
একটি সূত্র জানায়, “বীকন চালু করতে তাকে আশ্রয়স্থল থেকে বের হতে হয়েছিল—এটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”
ঠিক সেই সময় সিআইএর গোপন প্রযুক্তি গোস্ট মারমার তার অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করে।
“খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজা”
এই অভিযানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
“এই পাইলটকে খুঁজে বের করা ছিল খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতো। সিআইএ অসাধারণ কাজ করেছে।”
তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকে পাইলটকে শনাক্ত করা হয়েছিল, যদিও এটি প্রযুক্তির প্রকৃত সীমা কি না তা পরিষ্কার নয়।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বলেন,
“তিনি শত্রুর কাছে অদৃশ্য ছিলেন, কিন্তু আমাদের কাছে নয়।”
গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন
সূত্রগুলো বলছে, এই প্রযুক্তি এখনো অত্যন্ত গোপনীয়।
এমনকি পাইলটকে ঠিক কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, সেটিও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া:
- যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহার সম্ভব কি না
- কত সময় লাগে সংকেত প্রক্রিয়ায়
—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়।
একটি সূত্রের মতে, “এত দূর থেকে এই প্রযুক্তি সবসময় কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।”




