সৌদি আরবও কি গোপনে ইরানে হামলা চালিয়েছিল, নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তারা জানালেন গোপন সামরিক অভিযানের বিস্তারিত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ানের পাশে সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান দেখা যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি চারজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা বাস্তবে ঘটেছে এবং তা প্রকাশ্যে আগে কখনো জানা যায়নি।
রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে সৌদি আরবও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।
সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা: কী জানা যাচ্ছে?

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা সম্ভবত মার্চ মাসের শেষ দিকে সংঘটিত হয়। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং দুইজন ইরানি কর্মকর্তা জানান, সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
তাদের একজন বলেন, সৌদি আরব নিজ ভূখণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সামরিক পথ বেছে নেয়।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। সৌদি সরকারও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর পরিস্থিতি
২৮ ফেব্রুয়ারি Iran-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত ছয়টি দেশে পাল্টা হামলা চালায়, যার মধ্যে সৌদি আরবও ছিল।
এই সময় সৌদি আরবের ভেতরেও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা–কে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ। রয়টার্সের মতে, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো এতদিন এসব পাল্টা হামলার বিষয়টি প্রকাশ করেনি।
ইরানের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে বলে আলাদা এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কূটনৈতিক উত্তেজনা ও বোঝাপড়া
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হয়।
এই সময় সৌদি আরব রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে, যদিও প্রকাশ্যে তা সীমিত ছিল।
যুদ্ধের বিস্তার ও হরমুজ প্রণালির প্রভাব
ইরান শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাতেও হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে সক্ষম হয়।
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনের বাস্তবতা
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরব সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তারা সবসময় উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা: যুদ্ধ না কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌদি আরবের গোপন ইরান হামলা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের অংশ নয়, বরং একটি সীমিত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতি ও সামরিক শক্তি এখনো পাশাপাশি চলছে।




