বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী বাছাইয়ে ৩ দিনে শতাধিক ফরম বিক্রি, জানালেন রুহুল কবির রিজভী। যোগ্যতা, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা বিস্তারিত পড়ুন।
রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা, সংসদে কথা বলার দক্ষতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টন-এ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নির্বাচনের ওপর জোর দেন তিনি।
বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী নির্ধারণে দল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখবে। তিনি বলেন, যেসব নারী নেত্রী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং যারা সংসদে যুক্তিপূর্ণভাবে কথা বলতে সক্ষম, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজে যাদের ইতিবাচক পরিচিতি রয়েছে এবং যারা দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবেন, তারাও মনোনয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়া দলীয় গণতন্ত্রেরই অংশ।
ফরম বিক্রি ও জমা: তিন দিনের সময়সীমা

রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবার প্রায় পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে দলীয় কার্যালয়ে ফরম বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার, শনিবার এবং রবিবার—এই তিন দিন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। রবিবার (১২ এপ্রিল) এই কার্যক্রমের শেষ দিন।
তিনি বলেন, “অনেকেই ইতোমধ্যে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন, এবং এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।”
নির্বাচন প্রক্রিয়া: বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই
সংগৃহীত আবেদনপত্রগুলো দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ডে পাঠানো হবে। এই বোর্ডই যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভী বলেন, “প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে, সেটি খুব শিগগিরই পরিষ্কারভাবে জানানো হবে। আমরা গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করবো।”
এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের জমা দেওয়া ডকুমেন্ট যাচাই করা হবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচন করা হবে।
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি
রিজভী জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচন করে। এবারের ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তারা মনোনয়ন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দেবেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
রিজভী উল্লেখ করেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল। এই দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামের পর বর্তমানে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “এই সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করতে হয়েছে।”
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্রের বার্তা
রিজভী বলেন, দেশের জনগণ এখন দেখতে চায় সংসদে থাকা দলগুলো কীভাবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করছে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের মধ্যেই জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন।
তার মতে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়া একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গ
তিনি আরও বলেন, শুধু জাতীয় সংসদ নয়, দেশের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি—যেমন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান—সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া উচিত।
এটি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠনে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাপক আগ্রহ: নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ
সংরক্ষিত মহিলা আসনে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রিজভীর মতে, ইতোমধ্যে অনেক নারী ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং জমা দিয়েছেন।
এই আগ্রহ দলীয় রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।




