এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুলিশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
ইরানের এই পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (51)
কাতারকে কীভাবে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত আমির শেখ হামাদ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (39)
অং সান সু চি আমাদের বোন : মিয়ানমার

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ফল কী হতে পারে: বাধাই–বা কী?

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ফল কী হতে পারে, ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে নজর। ১০ দফা দাবি, যুদ্ধবিরতি ও লেবানন ইস্যুতে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ শনিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে, আর মার্কিন প্রতিনিধিদলও সেখানে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে।

বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা

ইসলামাবাদ এখন কার্যত একটি উচ্চ নিরাপত্তার শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে ৯ ও ১০ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিনিধিদলগুলো অবস্থান করছে রাজধানীর সুরক্ষিত সেরেনা হোটেলে। এই হোটেলের আশপাশে সরকারি দপ্তর ও দূতাবাস থাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।

কারা অংশ নিচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনার আয়োজন করছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কীভাবে এগোবে আলোচনা

এই বৈঠকে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনার বদলে ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে। অর্থাৎ, দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

শনিবার সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন পাকিস্তান হলো আলোচনার কেন্দ্র

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। উভয় দেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক।

পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং দেশটিতে বড় শিয়া জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি তেহরানের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাটো বহির্ভূত প্রধান মিত্র’ হিসেবেও পাকিস্তানের অবস্থান রয়েছে।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু

ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু:

 ইরানের ১০ দফা দাবি

  • হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি
  • মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার
  • মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত মেনে নেয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এগুলোকে ‘কার্যকরযোগ্য’ বলেছেন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে রাজি—যা ইরান এখনো নিশ্চিত করেনি।

লেবানন ইস্যু: বড় বাধা

এই আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে।

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান বলছে, এই হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

এই ভিন্ন অবস্থানই আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ফলাফল

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসা কঠিন।

সাবেক কূটনীতিক মাসুদ খালিদ মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এই শান্তি উদ্যোগকে ব্যাহত করছে। তাঁর মতে, এই হামলাগুলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে যাতে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে।

গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের দানিয়া থাফার বলেন, আলোচনায় ইসরায়েলের অনুপস্থিতি একটি বড় কাঠামোগত সমস্যা।

সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্র

তবে কিছু ক্ষেত্রে সীমিত অগ্রগতি সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে:

  • ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে আংশিক সমঝোতা
  • হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া
  • যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে দীর্ঘায়িত করা

বিশ্লেষক সাহার খান মনে করেন, এই পর্যায়ে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা।

বড় প্রশ্ন: গ্যারান্টি দেবে কে?

যদি কোনো চুক্তি হয়, সেটি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবে কে—এটি এখনো বড় প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে গ্যারান্টি দিতে আগ্রহী নয়। এমনকি চীনও এ ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

বিশ্ব কী আশা করছে

বিশ্ব এখন এই ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে।

যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই:

  • জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন
  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে

এই পরিস্থিতিতে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি কিংবা আংশিক সমঝোতাও বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত