দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা। বাজুসের নতুন সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটসহ সব ক্যারেটের ভরি দরে পরিবর্তন এসেছে।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যেখানে সোনার দাম কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নতুন সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দর কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে এই সমন্বয় আনা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেয়, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে সোনার দাম কমেছে বিভিন্ন ক্যারেটে, যা ক্রেতা ও বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বাজারে কেন আবারও সোনার দাম কমেছে?
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দামে পরিবর্তনের কারণেই মূলত দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের ওঠানামা বাংলাদেশের বাজারেও দ্রুত প্রতিফলিত হয়, যার কারণে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করতে হয় সংগঠনটিকে।
সোনার দাম কমেছে: নতুন দর কত নির্ধারণ করা হয়েছে?

২২ ক্যারেট সোনা
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সমন্বয়ে এখানে সোনার দাম কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
২১ ক্যারেট সোনা
২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমে এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, যেখানে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা কমানো হয়েছে।
১৮ ক্যারেট সোনা
১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা, যেখানে প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৯০ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
আগের সমন্বয়ের তুলনায় বাজার পরিস্থিতি
এর আগে সোমবার (২২ জুন) বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখন উল্টোভাবে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সমন্বয়ে ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সেই সময় ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও বাজারে পরিবর্তন এসেছে, ফলে পুনরায় সোনার দাম কমেছে বলে দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশেও পড়ে। তাই যখন বৈশ্বিক বাজারে দাম কমে, তখন দেশের বাজারেও সোনার দাম কমেছে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এছাড়া ডলার বিনিময় হার এবং আমদানি খরচও স্বর্ণের মূল্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
২০২৫ ও চলতি বছরের মূল্য সমন্বয়ের চিত্র
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
- ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে
- ৩৯ বার দাম কমানো হয়েছে
- ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে
এ থেকে স্পষ্ট যে বাজারে বারবার ওঠানামার কারণে সোনার দাম কমেছে এবং বেড়েছে—দুই ধরনের পরিস্থিতিই নিয়মিত ঘটছে।
গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়।
ক্রেতাদের ওপর প্রভাব
স্বর্ণের দাম কমার ফলে স্বল্পমেয়াদে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াকে জটিল করে তোলে।
তবুও সাম্প্রতিক সময়ে যেহেতু সোনার দাম কমেছে, তাই গহনা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনার দাম কমেছে: বাজারে ভবিষ্যৎ কী?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে স্বর্ণের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার এবং ডলারের শক্তি—সবকিছুই স্বর্ণের মূল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, সোনার দাম কমেছে ঠিকই, তবে এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।





