নেত্রকোনায় অবৈধ ডিজেল জব্দ অভিযানে ৩১০০ লিটার উদ্ধার, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা। জ্বালানি সংকটে মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ।
নেত্রকোনায় অবৈধ ডিজেল জব্দ অভিযানে প্রশাসন ৩ হাজার ১০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে এবং দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে। জ্বালানি তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে ডিজেল মজুত করায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের ঠাকুরাকোনা বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।
জ্বালানি সংকটের সুযোগে মজুতদারি

নেত্রকোনা জেলায় বর্তমানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ডিজেল মজুত করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারে জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়লেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় গোপনে তেল জমা করছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়।
অভিযান ও জব্দের বিস্তারিত
নেত্রকোনায় অবৈধ ডিজেল জব্দ অভিযানের চিত্র
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়:
- মেসার্স শংকর সাহা এন্টারপ্রাইজ
- মেসার্স রাজিব ট্রেডার্স
অভিযানে দেখা যায়, অবৈধভাবে গুদামে ড্রামে করে ডিজেল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
🔹 শংকর সাহার দোকান থেকে উদ্ধার: ১,৬০০ লিটার
🔹 রাজিব সাহার দোকান থেকে উদ্ধার: ১,৫০০ লিটার
মোট উদ্ধার: ৩,১০০ লিটার ডিজেল
জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা
অভিযানের অংশ হিসেবে দুই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ লঙ্ঘনের দায়ে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নিকটস্থ ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি সংকটের সময় কোনো ধরনের মজুতদারি বা বাজার কারসাজি সহ্য করা হবে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চালাবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
জ্বালানি সংকট এবং মজুতদারির বিষয়টি শুধু স্থানীয় নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়।




