এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-04-23T174948.112
বনানীতে তৃতীয় লিঙ্গের উৎপাতে নিয়ন্ত্রণ হারান বাসচালক: নিহত ২
Shikor Web Image (92)
চট্টগ্রামের ‘গুপ্ত’ উত্তেজনা: সংসদে সরকার-বিরোধীদলের প্রতিক্রিয়া
Shikor Web Image (90)
জামায়াত জোটের ১২ মনোনয়নপত্র বৈধ: মনিরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ
Shikor Web Image (80)
চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পের মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
Shikor Web Image (52)
শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা: ছাত্রদল সম্পাদকের

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর। সংসদে ৮ সদস্যের আলোচনায় কমন কমিটি, কৃত্রিম সংকট ও সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক।

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বাস্তবসম্মত প্রস্তাব থাকলে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আনা নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল জ্বালানি সরবরাহ, সংকটের বাস্তবতা, যৌথ উদ্যোগ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর উপায়।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় সরকারের আশ্বাস

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে প্রস্তাব দেন, জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল মিলে একটি “কমন কমিটি” গঠন করা যেতে পারে। তাঁর যুক্তি, সংকট বৈশ্বিক হলেও চাহিদা ব্যবস্থাপনায় সমস্যার কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, ফলে যৌথভাবে সমাধান খোঁজা জরুরি।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের যেকোনো বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ সরকার খতিয়ে দেখবে। তিনি সংসদে বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে যেটি প্রয়োজন, সেটিই করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিরোধী দলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যদিও কমন কমিটি গঠনের বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি, তবু আলোচনায় অংশগ্রহণ ও প্রস্তাব গ্রহণে উন্মুক্ত অবস্থান তুলে ধরেন।

সংসদে ৮ সদস্যের আলোচনায় মতপার্থক্য, তবে স্বার্থে ঐকমত্য

জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের মোট আটজন সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এক। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক বিভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় কোনো বিভেদ নেই।

এই বক্তব্য সংসদীয় আলোচনায় একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক পরামর্শের ইঙ্গিত মিলেছে।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে কী ছিল

শফিকুর রহমান পাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছেন, অনেকে চাটাই পেতে ঘুমাচ্ছেন। গাড়িচালক ও বাইকারদের সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আয়ে চাপ পড়ছে।

তিনি বলেন, সংকট সরকারের তৈরি না হলেও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েছে।

কমন প্ল্যাটফর্মের আহ্বান

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সব পক্ষ “ওপেন হার্ট” নিয়ে বসলে মানুষ আস্থার জায়গা পেত। তাঁর মতে, যৌথ কমিটির মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাস্তবায়নের উপযোগী হলে সরকার গ্রহণ করবে, না হলে বাদ দেবে—এমন নমনীয় অবস্থানও তুলে ধরেন।

সরকার বলছে সংকট নয়, কৃত্রিম চাপ

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদে দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, যা দেখা যাচ্ছে তা কৃত্রিম।

তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের আগে যেভাবে সরবরাহ ছিল, যুদ্ধের পরও তার চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসৎ উদ্দেশ্যে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে, ফলে প্রকৃত প্রয়োজনীরা সমস্যায় পড়ছেন।

পাম্পের সামনে সারিকে তিনি “অবৈধ লাইন” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই পরিস্থিতি তদন্ত করা উচিত।

মে পর্যন্ত চাহিদা নিশ্চিত, জুন-জুলাই নিয়েও কাজ

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জুন-জুলাইয়ের চাহিদা পূরণে কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও বলেন, সরকার শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও সুরক্ষামূলক নীতি নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সীমার মধ্যে দাম সমন্বয়ের যুক্তি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সীমার মধ্যে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন—যদি প্রকৃত অর্থে দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট থাকত, তাহলে কি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যবসা স্বাভাবিকভাবে চলত?

তার মতে, মজুতদারি, কালোবাজারি ও পাচারের কিছু বিচ্ছিন্ন চেষ্টা ছিল, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

বিরোধী সদস্যদের সমালোচনা

বিরোধী সদস্য মাসুদ পারভেজ বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পরও লাইনের চাপ কমেনি, বরং উৎপাদন ও সাধারণ জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

এনসিপির সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় অবস্থান ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না।

সাইফুল আলম বলেন, সরকার সমস্যা অস্বীকার করলে সমাধান আসবে না। সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ানো গাড়ির চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

এই আলোচনার বড় দিক ছিল, বিরোধী দলের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে সরকার তা বিবেচনায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ জাতীয় সংকট ইস্যুতে যৌথ প্ল্যাটফর্মের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

জ্বালানি বিকল্প, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘমেয়াদি নীতির প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।

ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা

জ্বালানি বিতর্কের আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অসংসদীয় ভাষা থাকলে তা পরীক্ষা করে বাদ দেওয়া হবে।

এই আলোচনা থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—

  • সরকার বিরোধী দলের প্রস্তাব শুনতে প্রস্তুত
  • বিরোধী দল যৌথ উদ্যোগে আগ্রহী
  • জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাস্তবতা বনাম “কৃত্রিম সংকট” বিতর্ক এখনো বহাল

সংসদীয় এই আলোচনা দেখিয়েছে, জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, নীতিগত আলোচনারও কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত