২০২৬-২৭ অর্থবছরের মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন হয়েছে। ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট আজ সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজস্ব সংগ্রহ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল নতুন অর্থবছরের বাজেট
সংবিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদিত হয়।

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার কত?
অনুমোদিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের পরিকল্পিত আয়-ব্যয়ের সামগ্রিক কাঠামো তুলে ধরবে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিকল্পিত আয় ও মোট ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে।
আয়-ব্যয়ের ব্যবধান কত?
প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয় এবং সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—দুই ধরনের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি পূরণে অর্থায়ন পরিকল্পনা
বাজেট নথি অনুযায়ী, মোট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে—
- ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা
- সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা
সরকারের এই অর্থায়ন পরিকল্পনা বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা
বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে বাজেটটি পেশ করা হবে।
এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট হিসেবে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপনও এটি।
রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর কার্যকর হবে নতুন বাজেট
সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাজেটে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং নতুন বাজেট কার্যকর হবে।
অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বাজেট?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের রাজস্ব নীতি, সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বাজেটের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে সরকারের আয়, ব্যয় এবং অর্থায়ন কৌশলের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
বিশেষ করে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় নীতিগত কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।





