হরমুজে চিরতরে নিষিদ্ধ হচ্ছে ইসরায়েলি জাহাজ, ইরানের নতুন প্রস্তাবিত ১২ দফা সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, জানালো পার্লামেন্ট
ইরানের পার্লামেন্ট কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে একটি নতুন আইন অনুমোদনের পথে রয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে হরমুজে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ আইন আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি।
শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের ভাইস স্পিকার আলী নিকজাদকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ১২ দফার এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
হরমুজে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ আইন: কী আছে নতুন প্রস্তাবে?
প্রস্তাবিত আইনের মূল বিষয়গুলো অনুযায়ী:

- ইসরায়েলের কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না
- “শত্রু দেশ” হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর জাহাজ, যাকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাদের আগে ইরানকে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
- এরপর ওই দেশগুলোর জাহাজকে বিশেষ পারমিট নিতে হবে
- অন্যান্য দেশের জাহাজকেও ইরান সরকারের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না
এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পার্লামেন্টের ১২ দফা পরিকল্পনা
ইরানের পার্লামেন্টের ভাইস স্পিকার আলী নিকজাদ জানান, এই ১২ দফা পরিকল্পনা শুধু একটি আইন নয়, বরং একটি সামগ্রিক নীতিগত পরিবর্তনের অংশ।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বর্তমান নিয়ম সম্পূর্ণভাবে বদলে যাবে। বিশেষ করে হরমুজে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক টানাপোড়েন
এই কঠোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন
- এরপর ইরান শুক্রবার একটি সংশোধিত প্রস্তাব উপস্থাপন করে
- দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত
এই পরিস্থিতিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের দিকে যাবে—এটাই মূল প্রশ্ন।
হরমুজ প্রণালির বৈশ্বিক গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই কারণে হরমুজে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ আইন বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জলপথে যেকোনো নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ:
- জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
- নৌপরিবহন রুটে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে
- বড় শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে
এই প্রেক্ষাপটে হরমুজে ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ আইন নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।




