এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (28)
ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রণোদনা বোনাসে শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
Shikor Web Image (31)
চট্টগ্রামের শিল্প খাতঃ কমেছে উৎপাদন বেড়েছে ব্যয়
Shikor Web Image (28)
সোনার দাম কমল দ্বিতীয় দফায়ঃ ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমেছে
Shikor Web Image (25)
জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশঃ যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা
Shikor Web Image (22)
১০০০-৫০০ টাকার নোটের লেনদেন নিয়ে সতর্কবার্তাঃ বাংলাদেশ ব্যাংক

এসএমইর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবেঃ এনবিআর চেয়ারম্যান

এসএমইর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে এনবিআর চেয়ারম্যান। কর অব্যাহতি, ডিজিটাল হিসাব ও ক্রস-বর্ডার ট্যাক্স নিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নতুন আলোচনা।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে (এসএমই) আরও সংগঠিত, করবান্ধব ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনতে এসএমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, এই প্ল্যাটফর্মে উদ্যোক্তারা শুধু তথ্য দেবেন, আর ব্যবসার বিভিন্ন হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। কর অব্যাহতির সুবিধাভোগী এসএমইদের শনাক্তকরণ, ডিজিটাল হিসাব ব্যবস্থা এবং ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল লেনদেনে কর আরোপ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন নীতিগত ইঙ্গিত।

এসএমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেন গুরুত্বপূর্ণ

দেশের এসএমই খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও এই খাতের বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। উদ্যোক্তাদের অনেকেই কাগজ-কলম বা টালি খাতায় হিসাব সংরক্ষণ করেন। এর ফলে কর প্রশাসন, প্রণোদনা সুবিধা ও নীতিগত সহায়তায় জটিলতা তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে এনবিআর চেয়ারম্যানের ঘোষিত এসএমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেবল প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং এটি কর ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা সেবা সহজীকরণের একটি কাঠামোগত রূপান্তরের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এসএমইদের জন্য যে কর অব্যাহতির সুবিধা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের সময় অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে এসএমই ফাউন্ডেশনের কাছে যদি এ-সংক্রান্ত ডাটাবেজ থাকে, তা এনবিআরের সঙ্গে শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি। আর ডাটাবেজ না থাকলে তা তৈরির পরামর্শ দেন।

কর অব্যাহতি ও ডিজিটাল শনাক্তকরণে নতুন ভাবনা

কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স এক্সেম্পশন নীতির কার্যকর প্রয়োগে সঠিক ডেটাবেজকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এসএমই খাতের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পরিচিতি কাঠামো গড়ার ভাবনা রয়েছে।

এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালু হলে উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন, কর হিসাব, লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ এবং সুবিধাভোগী যাচাই আরও সহজ হতে পারে—এমন ধারণা উঠে আসে আলোচনায়।

উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামোর প্রস্তাব

অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অধিকাংশ এসএমই উদ্যোক্তা এখনও প্রচলিত পদ্ধতিতে হিসাব রাখেন, যা আধুনিক কর ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো বা অফিস গড়ে তুলে প্রফেশনাল সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের মাসিক হিসাব সংরক্ষণে সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায় থেকেই এসএমই ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা তৈরি হবে।

এসএমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে স্থানীয় সহায়তার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেই হবে না, সেটি ব্যবহারযোগ্য করতে মাঠপর্যায়ের সহায়ক কাঠামোও প্রয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে সহায়তা কেন্দ্রের ধারণা সেই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

সিগারেট কর ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও এনবিআরের অবস্থান

আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ছিল সিগারেটের ওপর কর ও মূল্যবৃদ্ধি।

মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর এবং মূল্য বাড়ালে সিগারেটের ব্যবহার কমে—এটি এনবিআরের কাছে প্রমাণিত। ফলে ভবিষ্যতেও কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

এই বক্তব্য রাজস্ব নীতি ও জনস্বাস্থ্য—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্ব বহন করছে।

ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল সেবায় কর আদায়ের দাবি

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ আলম আলোচনায় ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনে কর আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সেবা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হলেও সেই লেনদেনের ওপর দেশে কার্যকর কর কাঠামো এখনও সীমিত।

তার বক্তব্যে ফেসবুক, মেটা, গুগলের সেবা কেনা এবং ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন থেকে কর আদায়ের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশি ডিজিটাল সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অন্য দেশে কর দিচ্ছেন, অথচ বাংলাদেশে বসে সেবা গ্রহণ করলেও দেশ সেই কর রাজস্ব পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ছোট পরিসর থেকে হলেও ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল লেনদেনে কর কাঠামো শুরু করা যেতে পারে।

ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তি সম্প্রসারণের আলোচনা

অধ্যাপক মাসুদ আলমের মতে, ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তি আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে স্ট্রিমিং সার্ভিসসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় লেনদেন বাড়লেও কর কাঠামো সমান্তরালে এগোয়নি।

শগ্রহণে নীতিগত আলোচনা

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ), অর্থনৈতিক গবেষণা গ্রুপ (ইআরসি), বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড), এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে বোঝা যায়, আলোচনা শুধু কর প্রশাসনের সীমায় ছিল না; বরং এসএমই উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও নীতি সংস্কারের বৃহত্তর কাঠামোও এতে যুক্ত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ নীতিতে কী ইঙ্গিত মিলছে

আলোচনায় উঠে আসা তিনটি বড় ইঙ্গিত হলো—

  • এসএমইদের জন্য ডিজিটাল ডেটাবেজভিত্তিক সেবা
  • স্থানীয় পর্যায়ে হিসাব ব্যবস্থাপনা সহায়তা
  • আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে কর কাঠামো নিয়ে নীতিগত অগ্রগতি

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে আনুষ্ঠানিকতা, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সর্বাধিক পঠিত