আরও খবর

Untitled design (8)
রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপ্পের
Untitled design
ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
Untitled design (25)
জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
Untitled design (22)
জাপানের বিপক্ষে কতক্ষণ খেলবেন নেইমারঃ যা জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
Untitled design (9)
বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ কে কার মুখোমুখি, দেখে নিন পূর্ণ সূচি

ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকো, ২-০ গোলে । আট বছর পর নকআউট পর্বে ফেরা, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও লাল কার্ডের ঘটনা জানুন।

আট বছর পর আবারও মেক্সিকো শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দল। মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হলেও সেই ব্যবধান ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

মেক্সিকো শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে দুর্দান্ত প্রথমার্ধ

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। তবে ফ্রি হেড পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।

সুযোগ নষ্ট হলেও মেক্সিকোর আক্রমণের ধার কমেনি। একের পর এক আক্রমণের পর ২২ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মেক্সিকো। ৩১ মিনিটে রাউল হিমেনেজ ১০ গজ দূর থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্তও করেন এই ৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।

ইকুয়েডরের সুযোগ থাকলেও ভাগ্য ছিল না সহায়ক

মেক্সিকো এগিয়ে থাকলেও ইকুয়েডরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল।

১৮ মিনিটে জন ইয়েবোয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। গোলটি হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। এরপর ৪০ মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইকুয়েডর।

এবারও জন ইয়েবোয়ার নেওয়া শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় সেভ করেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেল। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় মেক্সিকোর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ইকুয়েডর তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।

বরং ৬৭ মিনিটে তৃতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় মেক্সিকো। সেজার মন্তেসের শট অসাধারণ দক্ষতায় এক হাতে ঠেকিয়ে দেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেজ।

শেষ দিকে ৯০ মিনিটেও আরেকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে মেক্সিকো। প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে নিজেদের মধ্যে পাসে ভুল হওয়ায় তৃতীয় গোলটি আর পাওয়া হয়নি।

এরপর আর কোনো গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

রাউল হিমেনেজের প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের শুরুতে সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও পরে গোল করে নিজের ভুল শুধরে নেন রাউল হিমেনেজ। তার গোলই মেক্সিকোর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

কিনিয়োনেসের প্রথম গোলেই ম্যাচের মোড়

হুলিয়ান কিনিয়োনেসের ২২ মিনিটের গোল মেক্সিকোকে এগিয়ে দেয় এবং ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেয়।

রানহেলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ

প্রথমার্ধের শেষদিকে জন ইয়েবোয়ার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক রাউল রানহেল। সেই সেভ ম্যাচে ইকুয়েডরের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

যোগ করা সময়ে লাল কার্ড

ম্যাচের যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখেন।

হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কিছু বলার ঘটনায় ভিএআর পর্যবেক্ষণের পর রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান।

সূত্র অনুযায়ী, এই নিয়মে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখলেন হিনকাপিয়ে। এর আগে একই নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখেছিলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন।

মেক্সিকোর জন্য এই জয়ের গুরুত্ব

এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানও। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর এবার আবারও নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল মেক্সিকো।

প্রথমার্ধের কার্যকর আক্রমণ, গোলরক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স মিলিয়ে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছে স্বাগতিকরা।

সর্বাধিক পঠিত