জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বকাপে জার্মানিকে বিদায় দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে। জানুন পুরো ঘটনার বিস্তারিত।
বিশ্বকাপে শক্তিশালী জার্মানিকে বিদায় জানিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পর প্যারাগুয়ের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। জাতীয় ফুটবল দলের এই ঐতিহাসিক অর্জন যেন পুরো দেশ একসঙ্গে উদযাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার (১ জুলাই) সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার রাতে এক বিশেষ পুশ বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত জানান। পরে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় দলের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং জনগণকে একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্যারাগুয়ের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণ
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই সাফল্যের প্রতি সম্মান জানাতেই প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দেশটির সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় থাকবে।
কীভাবে জার্মানিকে হারালো প্যারাগুয়ে
নকআউট পর্বের ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় ছিল।
এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে উদযাপনে অংশ নেন। দেশজুড়ে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস।
কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে ধারাবাহিক সাফল্য
কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে প্যারাগুয়ে। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা দলটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্যারাগুয়ের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার আইনি ভিত্তি
সরকার জানিয়েছে, দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করতে পারেন।
ফুটবলারদের এই ঐতিহাসিক কীর্তিকে সম্মান জানাতে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছেন।
জাতীয় উদযাপনের বার্তা
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় ফুটবল দলের এই সাফল্য শুধু ক্রীড়াঙ্গনের অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত। তাই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী উদযাপনের সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর প্যারাগুয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে। সেই অর্জনকে জাতীয়ভাবে উদযাপন করতে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার ঘোষিত বিশেষ ছুটি দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার বলছে, জাতীয় দলের এই সাফল্যকে সম্মান জানানোই ছিল সিদ্ধান্তটির মূল উদ্দেশ্য।





