আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
ইনফান্তিনো কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন করতে পারবেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল ঘোষণা করেছে অজিরা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
ক্ষতটা গভীর, শুকাতে সময় লাগবে : খোলা চিঠিতে মেসি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বিশ্বকাপে কে কী পুরস্কার পেলেন

মেসিকে পেছনে ফেলে রদ্রির গোল্ডেন বল জেতা কতটা যৌক্তিক

মেসিকে পেছনে ফেলে রদ্রির গোল্ডেন বল জেতা কতটা যৌক্তিক,রদ্রির গোল্ডেন বল জয় নিয়ে মেসি-সমর্থকদের প্রশ্ন উঠেছে। ৮ ম্যাচে রদ্রির অসাধারণ পাসিং ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ কি মেসির গোল-অ্যাসিস্টকে ছাড়িয়ে গেছে?

ফাইনাল শেষে লিওনেল মেসির বদলে রদ্রিকে গোল্ডেন বল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তৈরি হয় বিতর্ক। স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠলে দর্শকদের একাংশ মেসির নাম ধরে চিৎকার করেন। সমর্থকদের দাবি, ফাইনাল বাদে পুরো টুর্নামেন্টে গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচসেরা পুরস্কারে মেসির অবদান বেশি ছিল। অন্যদিকে, ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ মনে করেছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে রদ্রির প্রভাব ছিল বেশি।

রদ্রির গোল্ডেন বল নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠল?

টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই অনেকের ধারণা ছিল, লিওনেল মেসিই গোল্ডেন বল জিতবেন। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু ফাইনাল শেষ হওয়ার পর পুরস্কারটি মেসির হাতে ওঠেনি।

বরং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এই পুরস্কার পান স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। এরপরই শুরু হয় আলোচনা—রদ্রির গোল্ডেন বল জয় কি সত্যিই প্রাপ্য ছিল, নাকি মেসির হাতেই পুরস্কারটি বেশি মানানসই হতো?

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণের সময় দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় বিতর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রদ্রি মঞ্চে উঠলে দর্শকদের একটি অংশ মেসির নাম ধরে চিৎকার করেন। এতে বোঝা যায়, সমর্থকদের একটি বড় অংশ পুরস্কারটির জন্য মেসিকেই এগিয়ে রেখেছিল।

মেসির পরিসংখ্যান কেন সমর্থকদের পক্ষে?

মেসির পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি ছিল তার আক্রমণাত্মক অবদান। এবারের টুর্নামেন্টে তিনি মোট ৮ গোল করেছেন। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৪টি গোল করিয়েছেন।

আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথেও মেসির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টে তিনি ৫ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। অর্থাৎ দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

এ কারণেই অনেক সমর্থক মনে করেন, ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর্জেন্টিনার একাধিক জয়ের নায়ক ছিলেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গোল্ডেন বল তার হাতেই বেশি মানানসই ছিল বলে তারা মনে করেন।

তবে গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচসেরার সংখ্যা একাই কোনো খেলোয়াড়ের সামগ্রিক প্রভাব নির্ধারণ করে না। এখানেই রদ্রির পারফরম্যান্সের বিষয়টি সামনে আসে।

রদ্রির গোল্ডেন বল: মিডফিল্ডে স্পেনের নিয়ন্ত্রক

রদ্রি এবারের বিশ্বকাপে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করেননি। ফলে আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যানে তিনি মেসির সঙ্গে তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন।

কিন্তু স্পেনের মাঝমাঠে তার ভূমিকা ছিল ভিন্ন ধরনের। দলটির অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন মাঝমাঠের মূল নিয়ন্ত্রক। ম্যাচের গতি, পাসিং এবং বলের দখল ধরে রাখার ক্ষেত্রে রদ্রির অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

পরিসংখ্যানও তার পারফরম্যান্সের অন্য দিকটি তুলে ধরে। পুরো আসরে ৮ ম্যাচে তিনি মোট ৭২৬ মিনিট খেলেছেন। এই সময়ে ৬৯২টি নির্ভুল পাস দিয়েছেন, যা টুর্নামেন্টে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

তার মোট পাসের ৯৪ শতাংশ ছিল সফল। পাশাপাশি ট্যাকলে ১৩ বার জয় পেয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, রদ্রির অবদান শুধু বল পাস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; মাঝমাঠে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

গোল-অ্যাসিস্ট বনাম ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ—বিতর্কের মূল জায়গা

রদ্রির গোল্ডেন বল জয় নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হলো খেলোয়াড় মূল্যায়নের দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

একদিকে রয়েছে মেসির গোল ও অ্যাসিস্ট। ৮ গোল এবং ৪ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তিনি সরাসরি আক্রমণাত্মক অবদান রেখেছেন। এর সঙ্গে রয়েছে ৫টি ম্যাচসেরার পুরস্কার।

অন্যদিকে রদ্রির অবদান ছিল মূলত দলীয় কাঠামোর কেন্দ্রে। তিনি গোল করেননি, অ্যাসিস্টও করেননি। কিন্তু মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, নির্ভুল পাস এবং ট্যাকলে তার অবদান স্পেনের খেলার ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

ফলে প্রশ্নটি দাঁড়ায়—সেরা খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কি সরাসরি গোল ও অ্যাসিস্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, নাকি পুরো দলের খেলার ওপর একজন মিডফিল্ডারের প্রভাবকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

এই দুই ভিন্ন মানদণ্ডের কারণেই রদ্রির গোল্ডেন বল জয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের মূল্যায়ন

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ রদ্রিকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করেছে। তাদের মূল্যায়নে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে রদ্রির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, আক্রমণ তৈরিতে মেসির অবদান থাকলেও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে রদ্রির প্রভাব ছিল বেশি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গোল বা অ্যাসিস্টের বদলে পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর তার প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই মূল্যায়নই রদ্রির গোল্ডেন বল জয়ের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি।

মেসির প্রাপ্যতা নিয়ে সমর্থকদের যুক্তি

মেসির সমর্থকদের যুক্তিও যথেষ্ট শক্তিশালী। তারা মনে করেন, কোনো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্ধারণের সময় সরাসরি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

মেসির ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট এবং ৫টি ম্যাচসেরা পুরস্কার তার ব্যক্তিগত প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তারা দেখছেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে তার অবদানকে সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ ছাড়া মেসির বয়সও আলোচনায় এসেছে। ৩৯ বছর বয়সে তিনি এখনও দলের আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন। তাই সমর্থকদের দৃষ্টিতে, এত বড় অবদানের পর গোল্ডেন বল তার হাতে না ওঠা সহজে মেনে নেওয়া কঠিন।

রদ্রির পক্ষে যুক্তি কোথায়?

রদ্রির পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো তার খেলার ধরন। একজন মিডফিল্ডারের প্রভাব অনেক সময় গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।

রদ্রি স্পেনের মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ৬৯২টি নির্ভুল পাস এবং ৯৪ শতাংশ পাসিং সফলতার হার তার ধারাবাহিকতার প্রমাণ। একই সঙ্গে ১৩টি ট্যাকলে জয় তার রক্ষণাত্মক অবদানও তুলে ধরে।

তাই ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের মূল্যায়নে রদ্রির ভূমিকা ছিল দলের সামগ্রিক সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের দৃষ্টিতে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে রদ্রির প্রভাব মেসির আক্রমণাত্মক অবদানের চেয়েও বেশি ছিল।

শেষ পর্যন্ত রদ্রির গোল্ডেন বল কতটা যৌক্তিক?

রদ্রির গোল্ডেন বল জয়কে পুরোপুরি অযৌক্তিক বলা যায় না। কারণ তার পারফরম্যান্সের পক্ষে শক্তিশালী পরিসংখ্যান রয়েছে। তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ নির্ভুল পাসদাতাদের মধ্যে ছিলেন এবং মাঝমাঠে স্পেনের খেলার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে মেসির পক্ষেও রয়েছে শক্তিশালী যুক্তি। ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট এবং ৫টি ম্যাচসেরা পুরস্কার কোনোভাবেই ছোট অর্জন নয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে তার ব্যক্তিগত অবদান ছিল স্পষ্ট।

সুতরাং রদ্রির গোল্ডেন বল নিয়ে বিতর্ক মূলত দুই ধরনের ফুটবলীয় অবদানের তুলনা। মেসি যেখানে গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আক্রমণে সরাসরি প্রভাব রেখেছেন, রদ্রি সেখানে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলেছেন।

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ রদ্রির সামগ্রিক প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু মেসির সমর্থকদের যুক্তিও পরিসংখ্যান দিয়ে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাই পুরস্কারটি রদ্রির জন্য প্রাপ্য ছিল কি না—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ভর করছে একজন খেলোয়াড়ের মূল্যায়নে গোল-অ্যাসিস্ট নাকি দলীয় নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত