আরও খবর

News Photocard (6)
বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগে ঘুরছে অটোরিকশার চাকা
News Photocard (3)
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান
News Photocard
দেশে জ্বর-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ১৩% ইনফ্লুয়েঞ্জা
News Photocard (6)
৩৬ হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা

নতুন পে স্কেলের গেজেট নিয়ে মিলল নতুন তথ্য

নতুন পে স্কেলের গেজেট নিয়ে মিলল নতুন তথ্য, আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং চলছে। ২০ গ্রেডের নতুন বেতন, ধাপে বাস্তবায়ন ও কার্যকর হওয়ার সময় জানুন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন ইতোমধ্যে বিজি প্রেস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল নিয়ে কাজ করা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশে অযথা বিলম্ব করার ইচ্ছা নেই। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি প্রকাশ করা হবে।

নতুন পে স্কেলের গেজেট নিয়ে সর্বশেষ তথ্য

জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর নতুন পে স্কেলের রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রেজল্যুশনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়।

বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের জন্য পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশে কোনো বিলম্ব করতে চাওয়া হচ্ছে না। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটুকুই লাগছে। দ্রুত গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে গত ৩১ আগস্ট। ওই দিন মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়।

নতুন বেতনকাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি চলতি সপ্তাহে আদেশ জারির কথা জানিয়েছিলেন।

তবে গেজেট প্রকাশের আগে কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার প্রয়োজন হচ্ছে। এ কারণেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেলের গেজেট নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগ্রহ রয়েছে। কারণ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নতুন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

২০টি গ্রেড বহাল থাকছে

নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি শতাংশ হারে বেতন বাড়ছে ২০তম গ্রেডে। এই গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে।

অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ মূল বেতনও দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

এভাবে নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেড—দুই ক্ষেত্রেই মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কীভাবে কার্যকর হবে নতুন বেতন

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অংশ ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেতনের অংশ তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ যোগ হবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে।

অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য ধাপের হার কিছুটা ভিন্ন রাখা হয়েছে। এসব গ্রেডে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে।

২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অংশ একসঙ্গে নয়, বরং নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী যুক্ত হবে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর করার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

গেজেট প্রকাশের পর কী হবে

বর্তমানে মূল বিষয় হলো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়া। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

গেজেট প্রকাশ হলে নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রশাসনিক কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে কোন গ্রেডে কীভাবে মূল বেতন কার্যকর হবে এবং ধাপগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সরকারি আদেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।

এ কারণে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের চিত্র

নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনাটি সংক্ষেপে এমন—

  • সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে।
  • প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা হবে।
  • ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ।
  • প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে।
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বাড়তি বেতন ৫০%, ২৫% ও ২৫%—এই তিন ধাপে কার্যকর হবে।
  • প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বাড়তি অংশ ৪০%, ৩০% ও ৩০%—এই তিন ধাপে কার্যকর হবে।
  • মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার কথা রয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যমান গ্রেড ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামোতে গ্রেড সংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর পরিবর্তে প্রতিটি গ্রেডের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিশেষ করে ২০তম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনের পরিমাণ নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই বর্ধিত বেতন পুরোপুরি একবারে কার্যকর না হয়ে নির্ধারিত তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী সময়ে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ফলে মূল বেতন এবং ভাতা—দুই অংশের বাস্তবায়ন সময় আলাদা থাকবে।

সামনে এখন গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদনের পর এখন গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে।

বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা হলো ভেটিং শেষ হওয়া এবং এসআরও নম্বরসহ আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ।

নতুন জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। রেজল্যুশন বিজি প্রেস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং চলছে। ভেটিং শেষ হলেই এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা রয়েছে।

তবে বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার কথা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত