গোলবন্যায় নতুন মৌসুম শুরু বার্সেলোনার, নতুন মৌসুম শুরু হলো এলচের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে। রাফিনিয়া ও ফেরমিনের জোড়া গোল, অভিষেকে আদেয়েমির গোল; তবে চোটে গাভি।
লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বার্সেলোনা শুরুতেই নিজেদের আক্রমণাত্মক শক্তির জানান দিয়েছে। এলচের মাঠে স্বাগতিকদের ৫-০ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে এই বড় জয় এসেছে রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেজের জোড়া গোল এবং অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমির এক গোলের মাধ্যমে। ম্যাচের এই ফল লা লিগার শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে বার্সেলোনাকে আত্মবিশ্বাসী শুরু এনে দিয়েছে।
লা লিগার অফিসিয়াল ম্যাচ রেকর্ডেও এলচের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-০ ব্যবধানের জয় এবং গোলদাতাদের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সা
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা আক্রমণে সক্রিয় ছিল। ১৪ মিনিটে রাফিনিয়াকে এলচের ডিফেন্ডার ভিক্তর চুস্ত বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। স্পট কিক থেকে ডান পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া।
এই গোলের পরও আক্রমণ থেকে সরে যায়নি বার্সেলোনা। বরং প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আরও বাড়ায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল পুনরুদ্ধারের পর লামিনে ইয়ামাল পাস দেন রাফিনিয়াকে। এরপর রাফিনিয়ার বাড়ানো বলে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে গোল করেন করিম আদেয়েমি।
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া জার্মান ফরোয়ার্ডের জন্য এটি ছিল অভিষেক ম্যাচেই গোলের মুহূর্ত। ফলে বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে নতুন সংযোজন আদেয়েমিও শুরুতেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর বার্সেলোনা
বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৬৭ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এর ফলে বার্সেলোনার লিড দাঁড়ায় ৩-০।
মাত্র চার মিনিট পর আবারও আক্রমণ তৈরি করে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডনের আরেকটি দারুণ আক্রমণ থেকে খালি জালে বল পাঠান ফেরমিন লোপেজ। এতে ব্যবধান হয় ৪-০।
তবে সেখানেই থামেনি বার্সেলোনা। ৭৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের পঞ্চম গোলটি করেন ফেরমিন। শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। লা লিগার অফিসিয়াল ফলাফল অনুযায়ী, রাফিনিয়া ও ফেরমিন দুজনই দুটি করে গোল করেন এবং আদেয়েমি করেন একটি গোল।
রাফিনিয়া ও ফেরমিনের জোড়া গোল

বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিকগুলোর একটি ছিল রাফিনিয়ার পারফরম্যান্স। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে রাফিনিয়ার এই পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দলের আক্রমণে তিনি যেমন সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি আদেয়েমির গোলের ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাফিনিয়ার বাড়ানো বল থেকেই গোল করেন আদেয়েমি।
অন্যদিকে ফেরমিন লোপেজও ম্যাচের শেষার্ধে নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। ৭১ মিনিটে গোল করার পর ৭৯ মিনিটে আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ফলে দলের ৫-০ জয়ে তার অবদান দাঁড়ায় দুটি গোল।
এলচের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
অভিষেকেই গোল করিম আদেয়েমির
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে নতুন মুখ করিম আদেয়েমির অভিষেকটিও ছিল নজরকাড়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে গোল করেন জার্মান ফরোয়ার্ড।
মাঝমাঠ থেকে বল পুনরুদ্ধারের পর ইয়ামাল বল দেন রাফিনিয়াকে। এরপর রাফিনিয়ার পাস পেয়ে আদেয়েমি অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে গোল করেন। নতুন ক্লাবে প্রথম ম্যাচেই গোল পাওয়ায় বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে তার শুরুটা হয়ে উঠেছে কার্যকর।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল, ফেরমিন লোপেজ ও আদেয়েমিদের সমন্বয় ম্যাচে এলচের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেছে।
বড় জয়ের মধ্যেও গাভিকে নিয়ে দুশ্চিন্তা
৫-০ গোলের বড় জয়ের পরও বার্সেলোনার জন্য পুরোপুরি স্বস্তির রাত ছিল না। বিরতির ঠিক আগে ডান হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন গাভি।
চোটের বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ফলে গাভির চোটের মাত্রা এবং তিনি পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
বার্সেলোনার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পাশাপাশি দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেসও দীর্ঘ মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গাভির চোট নিয়ে ক্লাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরিক্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
৫-০ জয় কী বার্তা দিল?
এলচের বিপক্ষে ৫-০ জয় বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে একটি শক্তিশালী সূচনা হিসেবে সামনে এসেছে। ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে গোল করার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।
বিশেষ করে রাফিনিয়া ও ফেরমিনের জোড়া গোল এবং আদেয়েমির অভিষেক গোল দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আক্রমণভাগের সমন্বয়ের দিকটিও সামনে এনেছে।
তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই পুরো মৌসুমের ফলাফল নির্ধারণ করা যায় না। লা লিগার দীর্ঘ মৌসুমে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে এই ৫-০ জয় আত্মবিশ্বাস জোগালেও সামনে আরও ম্যাচে একই ধরনের পারফরম্যান্স ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আত্মবিশ্বাসী শুরু
বার্সেলোনা এবার টানা তৃতীয়বার লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। সেই অভিযানের শুরুতেই এলচের মাঠে ৫-০ গোলের জয় দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
রাফিনিয়ার নেতৃত্ব, ফেরমিনের গোল করার দক্ষতা এবং আদেয়েমির অভিষেক গোল—সব মিলিয়ে বার্সেলোনার নতুন মৌসুমে প্রথম দিকের আলোচনায় উঠে এসেছে আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স।
তবে বড় জয়ের পাশাপাশি গাভির চোটও নজরে রাখতে হবে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ক্লাবের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে এলচের বিপক্ষে ৫-০ জয় দিয়ে বার্সেলোনা লা লিগায় নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। এখন সেই ধারাবাহিকতা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ধরে রাখাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।





