প্রথমবার এসিসির সভায় তামিম, এসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ব্যাংককের সভায় প্রথমবার অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই সভায় তাকে এসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার ক্রিকেটের উন্নয়ন, নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সুযোগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি।
তামিম ইকবাল এসিসি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে

এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় তামিম ইকবালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সভায় অংশ নিয়েই তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন।
এই কমিটির কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে এশিয়ার ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য সুযোগ বাড়ানোর বিষয়। পাশাপাশি ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কমিটিটি কাজ করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দায়িত্বটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে সভার সূত্রে আলাদা করে কিছু জানানো হয়নি।
ব্যাংককে এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এসিসির এই সভায় সংস্থাটির প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় এসিসির সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে সংস্থাটির নেতৃত্ব, নির্বাহী বোর্ড এবং বিভিন্ন কমিটির কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি খালিদ আল জারুনিকে সর্বসম্মতিক্রমে এসিসির নতুন সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।
২০২৬-২০২৮ মেয়াদে নির্বাহী বোর্ডে নতুন সদস্য
এসিসির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী বোর্ডেও নতুন সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। টেস্ট না খেলা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কাতার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আবদুলআজিজ বিন সৌদ আল থানি এবং সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ গাজনাভি নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে সহযোগী সদস্যদের মধ্য থেকে মালদ্বীপের মোহাম্মদ ফয়সাল ও বাহরাইনের মোহাম্মদ মনসুর নির্বাচিত হয়েছেন। তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এসিসির নির্বাহী বোর্ডে বিভিন্ন সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসিসির সভাপতির পদে বড় পরিবর্তন
সভায় এসিসির সভাপতির পদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকা পূর্ণ সদস্য বোর্ডগুলোর তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঘুরেফিরে এসিসির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও ভবিষ্যতে এসিসির সভাপতি হওয়ার সুযোগ পাওয়া পূর্ণ সদস্য বোর্ডগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো।
সভায় প্রশাসন, ক্রিকেট উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা ও অর্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসিসির একাধিক কমিটি গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এশিয়ার ক্রিকেট উন্নয়নে নতুন দায়িত্ব
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হবে এশিয়ার ক্রিকেটের উন্নয়ন। বিশেষ করে নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সুযোগ বাড়ানো এবং খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কাজ করার দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির ওপর।
ফলে তামিম ইকবাল এসিসি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কমিটির নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি।
মহসিন নাকভির বক্তব্য
এসিসির বর্তমান সভাপতি মহসিন নাকভি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এশিয়ায় ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়; এটি দেশ, সংস্কৃতি ও প্রজন্মকে যুক্ত করার একটি অভিন্ন মাধ্যম।
তিনি বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো এসিসির প্রশাসনিক পরিপক্বতা এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্মিলিত সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।
মহসিন নাকভির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যা বর্তমান দায়িত্বশীলরা তাদের পদ ছেড়ে যাওয়ার পরও ক্রিকেটের সেবা করে যেতে পারবে।
এসিসির সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
এসিসির সাম্প্রতিক সভায় নেতৃত্ব ও কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি ক্রিকেট উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তামিম ইকবালকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
তামিম ইকবাল এসিসি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে যে দায়িত্ব পেয়েছেন, সেটি মূলত এশিয়ার ক্রিকেটের উন্নয়নকেন্দ্রিক। নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সুযোগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার কারণে কমিটির কার্যক্রম এশিয়ার ক্রিকেট কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এসিসির সভাপতি নির্বাচনের সুযোগের তালিকায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে যুক্ত করা এবং ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী বোর্ডে নতুন সদস্য নির্বাচনের সিদ্ধান্তও সভার উল্লেখযোগ্য বিষয়।
সভায় বিভিন্ন কমিটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হলেও সেগুলোর বিস্তারিত পরে জানানো হবে। ফলে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হলো, তামিম ইকবাল এসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার কমিটি এশিয়ার ক্রিকেট উন্নয়ন, নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সুযোগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কাজ করবে।
এসিসির এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংস্থাটির প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন সহসভাপতি নির্বাচন, নির্বাহী বোর্ডে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকা পূর্ণ সদস্যদের তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত তারই অংশ।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় তামিম ইকবালের প্রথম অংশগ্রহণেই তাকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার ক্রিকেটের উন্নয়ন, নতুন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সুযোগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কাজ করবে এই কমিটি।
একই সভায় এসিসির নতুন সহসভাপতি নির্বাচন, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী বোর্ডে সদস্য নির্বাচন এবং সভাপতির পদে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সুযোগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।





