পদ্মা সেতুতে গতকালের দুর্ঘটনায় কতটুকু ক্ষতি হলো, মেরামতে ব্যয় কত, পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি পর্যালোচনায় পূর্ব পাশের প্রায় ৫০ মিটার রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে এবং সড়কের দাগসহ ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ব্যয় হতে পারে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
গতকাল সোমবার দুপুরে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে নামার সময় বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর বাসটি সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয় এবং পরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় আটজন যাত্রী আহত হন।
কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেতুর রেলিং

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটি প্রথমে সেতুর এক পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। পরে সেটি অন্য পাশের রেলিংয়েও আঘাত করে। এতে পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। সেতুর সড়কেও কিছু দাগ পড়েছে। প্রকৌশলীর মতে, সড়কের ওই ক্ষতি গুরুতর নয়।
সেতুর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে মেরামতের জন্য প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামতের কাজে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা
পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, দুর্ঘটনার পরও বাসের যাত্রী এবং সেতুর অবকাঠামো বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
অর্থাৎ, দুর্ঘটনায় সেতুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দৃশ্যমান ক্ষতি হলেও সেটিকে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামত করাই এখন মূল কাজ।
দুর্ঘটনার সময় কী ঘটেছিল
ঘটনাটি ঘটে গতকাল সোমবার বেলা সোয়া একটার দিকে। নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের বাসটি মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে নিচে নামার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসটি মাওয়া প্রান্তে পৌঁছায়। নামার সময় চালক অন্য একটি বাসকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। তখন বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে ফুটেজে দেখা যায়।
একপর্যায়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাঁ দিকে যেতে থাকে। এরপর বাসটি ঢালের ওপর লম্বালম্বিভাবে পিছলে যায়। এ সময় সেটি সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে জোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পরে বাসটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আট যাত্রীকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস
দুর্ঘটনার খবর বেলা ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে পৌঁছে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়।
উদ্ধারকারী দল বাসের ভেতরে থাকা আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর পদ্মা সেতুর ওপর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেতুর এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি এবং রেকারের সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেতুর ওপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় রয়েছে টহল দল
সেতু-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে পদ্মা উত্তর থানায় রয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় গাড়িসহ দুটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। তাঁরা সেতুর ওপর নিয়মিত নজরদারি করেন।
কোনো গাড়ি বা যাত্রী সমস্যায় পড়লে টহল দলের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে গাড়ি মেরামতের কাজ এবং যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন।
এই ব্যবস্থার ফলে সেতুর ওপর কোনো দুর্ঘটনা বা যানবাহনজনিত সমস্যার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। গতকালের দুর্ঘটনার পরও ফায়ার সার্ভিস ও সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি ও মেরামতের ব্যয়
পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে সেতুর সড়কে কিছু দাগ পড়েছে, তবে সেটিকে গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন না নির্বাহী প্রকৌশলী।
মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক করতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলীর দেওয়া তথ্যই মূল ভিত্তি। তাই মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার আগে প্রকৃত ব্যয় আরও নির্দিষ্টভাবে জানা যাবে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সেতুতে সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিলোমিটার
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, পুরো সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো সেতু পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সেতুর ওপর যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ গতিসীমা উল্লেখ করে সেতুর বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে অনেক চালক এই নির্দেশনা মানছেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা যানবাহনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।
এই তথ্যের সঙ্গে গতকালের বাস দুর্ঘটনার ঘটনাপ্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ। সিসিটিভি ফুটেজে বাসটিকে অন্য একটি বাসকে অতিক্রমের চেষ্টা করতে এবং পরে নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক
বাস উল্টে যাওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য পদ্মা সেতুর যান চলাচল বন্ধ থাকলেও দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পর এক পাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
পরে রেকার ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে বেলা আড়াইটার দিকে সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং মেরামতের কাজ শেষ করতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনা থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গতকালের ঘটনাটি থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, দুর্ঘটনায় পদ্মা সেতুর পূর্ব পাশের প্রায় ৫০ মিটার রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেরামতে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। তৃতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
এ ছাড়া সেতুর নির্ধারিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার হলেও দুর্ঘটনার সময় কিছু যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও নজরদারি
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুটি টহল দল, উদ্ধার সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। গতকালের দুর্ঘটনায়ও এসব ব্যবস্থার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
তবে সেতুর নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার বিষয়টি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা উল্লেখ করে বিলবোর্ড থাকলেও অনেক চালক তা অনুসরণ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার বিষয়টিও তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস দুর্ঘটনায় পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং সড়কে পড়া দাগও গুরুতর নয়।
পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনার ক্ষতি মেরামতে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে এবং কাজ শেষ করতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। দুর্ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন। উদ্ধার শেষে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।
সেতুর সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারিত থাকলেও দুর্ঘটনার সময় কিছু যানবাহনের গতি ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। একই সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের টহল ও ক্যামেরা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।





