আরও খবর

News Photocard (34)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যত রেকর্ড ও অর্জন
News Photocard (31)
মেসিকে নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন চিঠি
News Photocard (10)
এমবাপ্পে–হলান্ডকে পেছনে ফেলার রাতে বার্সার ৯১ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল
News Photocard (3)
এশিয়া কাপ অভিযানের শুরুতে বাংলাদেশের সামনে অচেনা ইন্দোনেশিয়া
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বিপিএল না হলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি

শেফিল্ডে ফেরার এক দিন পরই মাঠে, কেমন খেললেন হামজা চৌধুরী

শেফিল্ডে ফেরার এক দিন পরই মাঠে, বোল্টনের বিপক্ষে ৩-২ জয়ে দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি, তবে পারফরম্যান্সে ছিল কিছু প্রশ্নও ম্যাচে।

শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে ফেরার মাত্র এক দিন পরই মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ব্র্যামল লেনে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে শেফিল্ডের ৩-২ গোলের জয়ে প্রথম একাদশে ছিলেন তিনি। তবে জয় পেলেও ম্যাচে হামজার পারফরম্যান্স পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না।

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফিরেই দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন। এবার তাঁর ভূমিকা ছিল রাইটব্যাক পজিশনে। ম্যাচের শুরুতেই একটি আক্রমণ ঠেকাতে না পারার পর বোল্টন গোল করে। বিরতির আগে গোলের একটি বড় সুযোগও নষ্ট করেন হামজা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ম্যাচটির পারফরম্যান্স রেটিংয়ে হামজাকে ১০-এর মধ্যে ৫ নম্বর দিয়েছে। তাদের মূল্যায়নে, ম্যাচে হামজা পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না এবং রাইটব্যাক হিসেবেও তাঁকে স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি।

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফিরেই প্রথম একাদশে

গত ৩১ আগস্ট লেস্টার সিটিতে ২১ বছর কাটানোর পর স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন হামজা। তার পরদিনই তাঁকে দলের প্রথম একাদশে রাখা হয়। ফলে শেফিল্ডে ফেরার পর বিশ্রামের খুব বেশি সুযোগ পাননি বাংলাদেশি এই ফুটবলার।

ব্র্যামল লেনে ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর প্রথম মিনিটেই হামজাকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। বোল্টনের বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার থিয়েরি গ্যালে তাঁর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েও এগিয়ে যান। হামজা তাঁকে আটকাতে পারেননি।

গ্যালে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ক্রস করেন। হামজা তাঁর সামনে অবস্থান করলেও সেই ক্রস ঠেকাতে ব্যর্থ হন। শেফিল্ডের একজন সতীর্থ প্রথম বলটি ঠেকাতে সক্ষম হলেও ফিরতি বলে গোল করেন বোল্টনের শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জাভিয়ের সিমন্স।

হামজা সরাসরি গোলের জন্য দায়ী—এমন কথা বলার সুযোগ নেই। তবে তাঁর সামনে থাকা অবস্থায় ক্রসটি ঠেকাতে পারলে গোলের পরিস্থিতি তৈরি না-ও হতে পারত। হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফেরার প্রথম ম্যাচেই তাই এমন একটি মুহূর্তের মুখোমুখি হন, যেখানে তাঁর রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বোল্টনের বিপক্ষে ম্যাচে হামজার পারফরম্যান্স

ম্যাচে হামজার জন্য আরেকটি হতাশার মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে। রাইটব্যাক হিসেবে খেলা হামজা গোল করার বড় একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি।

দ্য স্টারের মূল্যায়নেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, হামজা ম্যাচে একেবারেই থিতু হতে পারেননি এবং রাইটব্যাক পজিশনেও তাঁকে স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি।

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফিরেছেন মূলত গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা নিয়ে। গত মৌসুমে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে ১৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেই সময়ে দলের প্লে-অফ ফাইনালে ওঠার পথেও তাঁর অবদান ছিল।

এবার স্থায়ীভাবে ক্লাবে ফেরার পর প্রথম ম্যাচেই তাঁকে মাঠে দেখা গেল। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে কিছু দুর্বলতা থাকলেও পুরো দলের ফল ছিল ইতিবাচক।

৩-২ জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় শেফিল্ড

ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে সেই ধাক্কা সামলে মাত্র তিন মিনিট পরই সমতায় ফেরে দলটি। ডিফেন্ডার জাফেট ট্যানগ্যাঙ্গার গোলে স্কোরলাইন ১-১ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আবারও শেফিল্ডের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। ৬৭ মিনিটে বোল্টন গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু এক মিনিটের মধ্যেই শেফিল্ড ম্যাচে আবার সমতা ফেরায়।

এবার গোল করেন প্যাট্রিক ব্যামফোর্ড। তাঁর গোলে স্কোরলাইন হয় ২-২। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে আসে শেফিল্ডের কাঙ্ক্ষিত জয়।

৯০+৩ মিনিটে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমেল ডনোভান গোল করে শেফিল্ডকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।

ফলে হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফেরার প্রথম ম্যাচেই জয় দেখলেন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কিছু প্রশ্ন থাকলেও দলীয় ফলের দিক থেকে এটি ছিল সফল প্রত্যাবর্তন।

ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বংশোদ্ভূত দুই খেলোয়াড়

বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য ম্যাচটির আরেকটি আকর্ষণ ছিল হামজা চৌধুরী ও জাভিয়ের সিমন্সের মুখোমুখি হওয়া। বোল্টনের হয়ে খেলা সিমন্স শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।

অন্যদিকে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা। এ কারণে ম্যাচটি অনেক সমর্থকের কাছে লঙ্কা-বাংলা লড়াই হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

তবে মাঠের বাস্তবতায় ম্যাচটির কেন্দ্র ছিল শেফিল্ডের ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দলটি দুইবার সমতায় ফেরে এবং শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে জয় তুলে নেয়।

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফেরার পর কী বললেন

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন হামজা। ব্র্যামল লেনে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত বলে জানান। তাঁর মতে, জয়টি অবশ্যই বড় সাফল্য ছিল, যদিও কাজটি সহজ ছিল না।

হামজা বলেন, ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া শেফিল্ডের জন্য প্রত্যাশিত শুরু ছিল না। তবে সতীর্থরা সাহসের সঙ্গে খেলায় ফিরে এসেছে।

ব্র্যামল লেনের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন হামজা। তাঁর ভাষায়, এই স্টেডিয়াম বিশেষ এবং এখানকার দর্শকরাও বিশেষ।

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফিরেই মাঠে নেমে সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদ্‌যাপন করেছেন। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জায়গা থাকলেও তাঁর নিজের বক্তব্যে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

স্থায়ীভাবে শেফিল্ডে হামজার নতুন অধ্যায়

হামজা চৌধুরী গত ৩১ আগস্ট লেস্টার সিটি থেকে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন। এর আগে গত মৌসুমে ধারে শেফিল্ডের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।

গত মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে হামজা ১৯টি ম্যাচ খেলেন। দলটিকে প্লে-অফ ফাইনালে তুলতেও তাঁর অবদান ছিল। তবে ফাইনালে সান্দারল্যান্ডের কাছে হেরে যায় শেফিল্ড। ফলে প্রিমিয়ার লিগে ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয় দলটির।

স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই হামজা আবার শেফিল্ডের জার্সিতে মাঠে নামলেন। হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে নতুন অধ্যায় শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই তাঁকে রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই দিকেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

শেফিল্ডের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁর ভূমিকা কী হবে, সেটি SOURCE TEXT-এ উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাঁর ভবিষ্যৎ পজিশন বা পারফরম্যান্স সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

সামগ্রিকভাবে কেমন ছিল হামজার ম্যাচ?

হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফেরার ম্যাচটিকে দুই দিক থেকে দেখা যায়। দলীয় ফলাফলে শেফিল্ডের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ জয়। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দলটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে হামজার শুরুটা ছিল কঠিন। ম্যাচের প্রথম মিনিটে বোল্টনের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর গোল হজম করে শেফিল্ড। পরে বিরতির আগে গোলের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

দ্য স্টারের ৫/১০ রেটিংও তাঁর পারফরম্যান্সের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে রাইটব্যাক পজিশনে তাঁকে স্বচ্ছন্দ মনে না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

তবে একটি ম্যাচের ফলাফল এবং ব্যক্তিগত মূল্যায়ন আলাদা বিষয়। হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে ফিরেই প্রথম একাদশে খেলেছেন এবং দলকে জয় পেতে দেখেছেন। শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করা।

শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে ফেরার এক দিন পরই মাঠে নেমে জয় পেয়েছেন হামজা চৌধুরী। বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে তিনি ছিলেন প্রথম একাদশের খেলোয়াড়।

তবে ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচটি তাঁর জন্য নিখুঁত ছিল না। শুরুতেই প্রতিপক্ষের ক্রস ঠেকাতে পারেননি এবং পরে একটি বড় গোলের সুযোগও নষ্ট করেন। ফলে পারফরম্যান্স রেটিংয়ে ১০-এর মধ্যে ৫ পেয়েছেন তিনি।

তারপরও হামজা চৌধুরী শেফিল্ডে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি দলীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে শুরু করেছেন। এখন তাঁর সামনে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে নতুন অধ্যায়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত