আরও খবর

News Photocard (9)
ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে রাশিয়া : পুতিন
News Photocard (28)
ঝুঁকিতে হিমালয়ের ২০০ হিমবাহ হ্রদ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ১৫
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (7)
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
নেপাল-চীনে নিহত বেড়ে ৭৯৭, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পাল্টা হামলা ইরানের

একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পাল্টা হামলা ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।

ইরান একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির ভাষ্য, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই ইরানের পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের দাবির বেশ কিছু অংশ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে মার্কিন বিমান হামলার খবর আসে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি

আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত এবং ঘাঁটির কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে এসব দাবির সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান। দুই দেশই হামলায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে।

এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছিল আইআরজিসি। ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পটির কয়েকটি স্থাপনা ও ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছিল সংস্থাটি।

অন্যদিকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনাদের ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেছে ওই সূত্র।

জর্ডানের আকাশে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করে বলে জানিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী। বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়ে।

জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এই তথ্য ইঙ্গিত করছে, জর্ডানের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করলেও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর বড় অংশকে মাঝপথেই প্রতিহত করেছে।

ইরানের পাল্টা হামলা: উত্তর ইরাকেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিল প্রদেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।

এ ছাড়া ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন পক্ষের আলাদা কোনো ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আইআরজিসির দাবিগুলোকে দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কুয়েতে ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। তারা ঘটনাটিকে ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার কারণে হয়েছে।

অর্থাৎ, কুয়েতের পক্ষ থেকে ড্রোন প্রতিহতের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও হামলায় মার্কিন স্থাপনায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

বাহরাইনে শেখ ইসা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা এবং রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি, শেখ ইসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

ইরানের সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ঘাঁটিটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি এবং নজরদারি উড়োজাহাজ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর পাল্টা জবাব

ইরানের পক্ষ থেকে এসব হামলার কারণ হিসেবে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। ফার্সের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার খবর এসেছে।

এর আগে হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি জানিয়েছিল, ওই ঘটনায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার জবাবেই জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্পের আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, এসব হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে দেশটির ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।

এর আগে রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা চালানোর খবর আসে।

ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এসব দেশও সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়ছে।

হামলার দাবিগুলো নিয়ে কী জানা যাচ্ছে

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিষয়ে ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আইআরজিসি জর্ডান ও ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান কিছু হামলায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী অবশ্য তাদের আকাশসীমায় ১৩টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের তথ্য দিয়েছে এবং ১০টি ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। কুয়েতও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

তাই ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে যেসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নতুন চাপ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক অবস্থানও লক্ষ্যবস্তু হওয়ার দাবি সামনে এসেছে। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা বা হামলা প্রতিহতের খবর এই উত্তেজনার ভৌগোলিক বিস্তৃতি তুলে ধরছে।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার খবর এবং ট্রাম্পের আরও কঠোর হামলার সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে হামলা ও প্রতিরোধের তথ্য দিচ্ছে। তবে কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নিয়ে পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি এসব হামলাকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্য এক নয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত