বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন ধাপ এটি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে একটি কৌশলগত চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন একটি পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দিয়েছিল।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সহযোগিতার নতুন ধাপ
সই হওয়া চুক্তির মূল বিষয় হলো বেসামরিক বা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা। অর্থাৎ, পারমাণবিক প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি হলো।

২৫ সেপ্টেম্বরের চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এতে সই করেন সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ চুক্তি দুই দেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নতুন পদক্ষেপ।
বিষয়টি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে এ সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এবং প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে এসেছিল। ফলে শুক্রবারের চুক্তিকে সেই ধারাবাহিকতার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল প্রস্তাবের আলোচনা
সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁর সফরের সময় ওয়াশিংটন ঢাকার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়।
এরপর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানো হয়।
গত ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হবে।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারের অবস্থানের একটি দিক স্পষ্ট হয়—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা সহযোগিতার বিষয়গুলো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্ব
শামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে বলেছিলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এ বিষয়ে ‘ইতিবাচক’। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
ফলে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে বর্তমান চুক্তির আলোচনায় জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে এসেছে।
পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার একটি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল ক্ষেত্র। তাই এ ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর গুরুত্ব রয়েছে। তবে এই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামো, সময়সীমা বা অন্যান্য কারিগরি শর্ত সম্পর্কে প্রদত্ত সূত্রে বিস্তারিত তথ্য নেই।
এ কারণে চুক্তির আওতায় ঠিক কোন কোন প্রকল্প বা প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা হবে, সে বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য অনুমান করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আগের অবস্থান
৩ আগস্টের বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে দেশের জনগণের স্বার্থ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ২৫ সেপ্টেম্বর দুই দেশের প্রতিনিধিরা কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে চুক্তিতে সই করলেন।
অর্থাৎ, প্রস্তাব উত্থাপন থেকে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই—এই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি এগিয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব আসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানানো হয়। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর চুক্তি সই হয়।
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা
চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার। বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বলতে সাধারণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োগকে বোঝানো হয়। তবে এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কোন কোন প্রযুক্তি, প্রকল্প বা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা প্রদত্ত সংবাদে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তাই চুক্তির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চিত কোনো অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।
বর্তমান তথ্য থেকে বলা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার পর্যায়ে এসেছে।
এটি এমন একটি সময়েও হলো, যখন দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই নির্দিষ্ট চুক্তির বাইরে অন্য কোনো ক্ষেত্রের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমন তথ্য প্রদত্ত সূত্রে নেই।
চুক্তির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্কের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও একটি নির্দিষ্ট বিষয় হিসেবে যুক্ত হলো।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্যাকব হেলবার্গের স্বাক্ষর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বকে সামনে এনেছে।
এখন এই সহযোগিতার বাস্তব রূপ কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। তবে প্রদত্ত সংবাদে সেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর আগে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছিল। ফলে চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রমেও সেই নীতিগত অবস্থান প্রাসঙ্গিক থাকবে—এটি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে বোঝা যায়।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সহযোগিতা: সামনে কী
২৫ সেপ্টেম্বরের চুক্তি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি নতুন আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করেছে। এর আগে যে প্রস্তাব ও আলোচনা হয়েছিল, চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে সেটি আরও এগিয়েছে।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন, নির্দিষ্ট কর্মসূচি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ধরন কিংবা সময়সীমা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রদত্ত সংবাদে বিস্তারিত তথ্য নেই।
তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো দেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। নতুন চুক্তির ক্ষেত্রেও সেই অবস্থানই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে থাকছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ২৫ সেপ্টেম্বর বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে কৌশলগত চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন এ ধরনের সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দিয়েছিল। ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বিবেচনা করবে।
চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রবেশ করল। চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।





