এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (16)
মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের
News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
News Photocard (3)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় রোনালদোর শ্রদ্ধা
News Photocard (24)
বিস্ফোরক বিবৃতিতে নিজের শাস্তি চাইলেন রোনালদো

প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড

প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নতুন মাত্রা পেয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের আত্মবিশ্বাস ও শক্তির বিশ্লেষণ জানুন।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর। পুরো টুর্নামেন্টে রক্ষণাত্মক ও নেতিবাচক কৌশলে খেলা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং সামনে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশল ইংল্যান্ডকে কী শিখিয়েছে?

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড এমন কয়েকটি দলের বিপক্ষে খেলেছে, যারা মূলত রক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল যেকোনোভাবে ম্যাচে টিকে থাকা এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে আটকে রাখা।

এর ফলে ইংল্যান্ডকে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফুটবল খেলতে হয়েছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের বদলে ধৈর্য ধরে সুযোগ তৈরি করা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল গ্রহণ করতে হয়েছে। ফলে অনেক সময় তাদের পারফরম্যান্স বিচ্ছিন্ন এবং মুহূর্তনির্ভর মনে হয়েছে।

দর্শকদের কাছে সেই ফুটবল সবসময় আকর্ষণীয় না লাগলেও বড় টুর্নামেন্টে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জয় নিশ্চিত করা।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স কেন বদলে দিল মেক্সিকো ম্যাচ?

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি অনেক দিক থেকেই আলাদা ছিল।

প্রতিপক্ষ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের কিছু ভুলের মূল্যও দিয়েছে।

ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল কয়েকটি কারণে—

  • মেক্সিকোর সমর্থকদের প্রবল উৎসাহ
  • স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন
  • ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত মাঠে খেলা
  • ম্যাচের দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হওয়া

প্রায় ৪০ মিনিট একজন কম নিয়ে খেলেও ইংল্যান্ড রক্ষণে ছিল সুশৃঙ্খল এবং আক্রমণে ছিল কার্যকর। কঠিন পরিস্থিতিতে দলটি যে সাহস, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

বড় টুর্নামেন্টে সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বকাপের মতো আসরে সব সময় চোখধাঁধানো ফুটবল খেলে সফল হওয়া সম্ভব হয় না।

অনেক সময় ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হয়। প্রয়োজন হলে ধৈর্য ধরতে হয়, রক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং ছোট সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়।

ইংল্যান্ডও সেই পথেই এগিয়েছে।

এখন পর্যন্ত দলটি হয়তো নান্দনিক ফুটবল সব ম্যাচে উপহার দিতে পারেনি, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে জয়ের পথ বের করেছে। বড় টুর্নামেন্টে এটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলের বড় শক্তি: হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম

ইংল্যান্ড দলে কিছু দুর্বলতা থাকলেও শক্তির জায়গাও কম নয়।

হ্যারি কেইন

হ্যারি কেইনকে বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় সম্পদ।

জুড বেলিংহাম

জুড বেলিংহাম এমন একজন ফুটবলার, যিনি একাই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।

এই বিশ্বকাপেও তিনি সেই সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাকে ইংল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে শুধুই একটি জয় হিসেবে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারণ সামনে রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

এ পর্যায়ে প্রতিটি ভুলের মূল্য অনেক বেশি। তাই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। বরং বিনয় ধরে রেখে একই মনোযোগ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে বিশেষ চ্যালেঞ্জ

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে আর্লিং হালান্ডকে।

তিনি অসাধারণ ফিনিশার এবং শারীরিক সক্ষমতায় অনন্য। ফলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।

রক্ষণভাগ যদি সংগঠিত থাকে এবং আগের ম্যাচের মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে, তাহলে ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। টুর্নামেন্টের শুরুতে রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত ছন্দ না পেলেও দলটি প্রতিটি ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে জয় সেই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে একই শৃঙ্খলা, কার্যকর আক্রমণ এবং রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারলে ইংল্যান্ড আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত