আরও খবর

Untitled design (11)
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ
Untitled design (27)
খামেনির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তেহরানে জনসমুদ্র
Untitled design (17)
ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো
Untitled design (14)
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Untitled design (6)
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে চীনকে নরওয়ের আহ্বান

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে চীনকে নরওয়ের আহ্বান, চীনের ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতার আহ্বান সামনে এনে নরওয়ে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে বেইজিংকে অনুরোধ করেছে। জানুন বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো।

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চীনের ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতার আহ্বান আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে নরওয়ের পক্ষ থেকে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গার স্টোরে বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে বেইজিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সোমবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্টোরের মতে, রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগের সুযোগ চীনের রয়েছে। সেই সুযোগকে ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনের ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতার আহ্বান নিয়ে নরওয়ের অবস্থান

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউনাস গার স্টোরে বলেন, তারা আশা করেন এবং জোর দিয়ে অনুরোধ করেন যে, চীন যেন রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধই ওয়াং ইর সঙ্গে আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। যদিও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য উপায়ই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

স্টোরে আরও বলেন, ইউরোপ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ইউক্রেনে যুদ্ধ চলমান থাকা এবং চীন রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে অবস্থান করায় সেই সম্ভাবনা সীমিত হয়ে আছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

সোমবারই নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের আলোচনা ছিল “গঠনমূলক এবং আশাব্যঞ্জক”

চীন রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে সহায়তা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্য ছিল, তিনি চীনের মুখপাত্র নন, তাই তাদের অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে তিনি বলেন, চীনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে নরওয়ের প্রস্তাব

নরওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ বন্ধে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া উচিত।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপে বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যেতে পারে।
  • এরপর আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

স্টোরে বলেন, বর্তমান যুদ্ধরেখা মেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া ইউক্রেনের জন্য একটি বড় ধরনের ছাড় হবে। কারণ এতে দেশটিকে বিদ্যমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আলোচনায় অংশ নিতে হবে।

নরওয়ে সফরে ওয়াং ই

ডেনমার্ক, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড সফর শেষে নরওয়েতে পৌঁছান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

অসলো সফরে তিনি নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকের পর চীনের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রাশিয়া বা ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো উল্লেখ ছিল না।

এর পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে—

  • বাণিজ্য
  • বিনিয়োগ
  • সবুজ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা

বৃদ্ধির বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেন, আরও ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে নরওয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন।

ট্রাম্পের মন্তব্য

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষ যা ভাবছে, তার চেয়েও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”

তিনি জানান, এ সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করবেন।

যদিও তিনি এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি, তবে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাকে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নরওয়ে মনে করছে, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বিদ্যমান যোগাযোগ যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, চীন আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুদ্ধ প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও নরওয়ের কর্মকর্তারা আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধবিরতি, শান্তি আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চীনের ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতার আহ্বানকে কেন্দ্র করে নরওয়ে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অসলোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নরওয়ে স্পষ্টভাবে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে শান্তি আলোচনার পথ সহজ করতে সহায়তা করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত