এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (15)
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩ ছবি ফাঁস করল এআই এজেন্টরা
News Photocard (9)
অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, ব্যাহত গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ
News Photocard (24)
ভারতজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তেলাপোকাদের
News Photocard (18)
মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’
News Photocard (15)
নেতানিয়াহু তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করছে কি না খতিয়ে দেখছে কানাডা

হরমুজ প্রণালির নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের ৭ দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। মানচিত্রে জলপথটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’।

ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেওয়ার পর নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৬ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়ার পরই ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র প্রকাশের বিষয়টি সামনে আসে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)। একই সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে পারবে না। তেহরান তাঁর শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ইরানে আবারও মার্কিন বোমা হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।

ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব কী ছিল

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবটি কয়েকটি শর্তের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব।

তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।

আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে এরপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

ওয়াশিংটন পোস্টের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং বৃহত্তর যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করত।

ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ চলাচলে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিভিন্ন বক্তব্য এবং বাণিজ্যিক শিপিং ট্র্যাকারদের তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের কথা উঠে এসেছে।

আগস্টেও হরমুজ নিয়ে মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে আগস্টেও তিনি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে জলপথটির আশপাশের অঞ্চলকে ‘NEW U.S. Territory’ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ওয়াশিংটন পোস্টের আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের উপকূলবর্তী কিছু এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর আগে ট্রাম্প হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণার ধারণার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

তখন ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ইরান সমুদ্রপথে মাইন পেতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা রাখে।

এবারের মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে সরাসরি ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করার বিষয়টি তাই আগের বক্তব্যগুলোর ধারাবাহিকতায় নতুন করে সামনে এসেছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মানচিত্র প্রকাশের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে পারবে না।

তবে তেহরান তাঁর শর্ত মেনে চলবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ইরানে নতুন করে মার্কিন বোমা হামলার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রশ্নটি শুধু নৌ চলাচলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবেও এই বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ পুনরায় খোলার সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয় রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে।

ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের হিসাব এক নয়। মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে।

তবে বিষয়টি যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক নজর রয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক সমীকরণ

ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র প্রকাশ একই সময়ে সামনে আসায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের প্রস্তাবের মূল কাঠামো হলো—যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে বৃহত্তর সংঘাতের অবসানের পথে এগোনো। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং তেহরান তাঁর শর্ত মানবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও ট্রাম্প দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দেখাননি।

এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়টি সামরিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো, ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী অবস্থান নেয়। দ্বিতীয়টি হলো, হরমুজে নৌ চলাচল কতটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

ইরান প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টিকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধবিরতির মতো শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও তেহরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ফলে নতুন ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ মানচিত্রটি শুধু একটি নাম পরিবর্তনের দাবি হিসেবে নয়, বরং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সর্বশেষ প্রকাশ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত