আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
দিল্লিতে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যাগ থেকে ৩১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
হামাস নেতাদের সঙ্গে কেন গোপন বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (7)
ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
মোদির বলা ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে ভারতে কেন এত আলোচনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান: ইসরায়েলের নিন্দায় ৮ মুসলিম দেশ

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান তাঁর।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটন আগ্রহী নয়। বরং তিনি ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার আওতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের আলোচনা সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সময়সীমা শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। এর মধ্যেই ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে নিয়ে গেছে।

৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ

গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের নির্ধারিত ৬০ দিনের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কার্যকারিতা নেই।

বাঘাই আরও জানান, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দেওয়ার জন্য দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ফলে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না। জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, ‘না’।

অর্থাৎ, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নেই—এমন অবস্থানই প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। বরং তাঁর বক্তব্যে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়। তবে তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করে, তেহরান সেই ধরনের চুক্তিতে রাজি নয়।

তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করতে রাজি নয়। এর পাশাপাশি ট্রাম্প আবারও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতা করেন।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে থাকার একটি কারণ হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে না।

এই অবস্থানের পাশাপাশি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান তাঁর সামগ্রিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানকেই সামনে এনেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকেও হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।

ফলে ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্যও সামনে এসেছে।

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। সম্প্রতি ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে আবার প্রশ্ন করা হলে তিনি তাঁর আগের বক্তব্যের পক্ষেই অবস্থান নেন।

ট্রাম্প বলেন, তাঁর কাছে এটি ‘দারুণ একটি ধারণা’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ রয়েছে এবং সেই অবরোধের মাধ্যমেই প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার ধারণার প্রতিও সমর্থন জানান।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তেল পরিবহন ও দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির সঙ্গে তেল পরিবহনের বিষয়টিও যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকায় তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে।

তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমানের তুলনায় আরও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।

সমঝোতার পরবর্তী পরিস্থিতি কী

৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। ফলে জুনে শুরু হওয়া আলোচনার কাঠামো এখন কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে অনাগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি ইরানের ওপর কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দুই দেশের সম্পর্ক ও আলোচনার পরবর্তী ধাপে এর প্রভাব পড়বে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুই পক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উত্তেজনা কমার পরিবর্তে নতুন করে কঠোর অবস্থান সামনে এসেছে।

ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন বলে স্পষ্ট করেছেন এবং ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ থাকার দাবিও তিনি আবার জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন এবং হামলা হলে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলেছেন। ফলে সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বদলে কঠোর বক্তব্যই আপাতত সামনে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত