এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-04-23T174948.112
বনানীতে তৃতীয় লিঙ্গের উৎপাতে নিয়ন্ত্রণ হারান বাসচালক: নিহত ২
Shikor Web Image (92)
চট্টগ্রামের ‘গুপ্ত’ উত্তেজনা: সংসদে সরকার-বিরোধীদলের প্রতিক্রিয়া
Shikor Web Image (86)
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
Shikor Web Image (80)
চট্টগ্রামে ওয়াসার প্রকল্পের মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
Shikor Web Image (52)
শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা: ছাত্রদল সম্পাদকের

জামায়াত জোটের ১২ মনোনয়নপত্র বৈধ: মনিরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

জামায়াত জোটের ১২ মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। মনিরা শারমিনের বিষয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে—জানুন বিস্তারিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন ঘিরে জামায়াত জোটের নারী আসন মনোনয়ন নিয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১২টিকে বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ তার চাকরি ত্যাগ সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যা এখনও যাচাইাধীন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইনি শর্ত পূরণ ও দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

১৩টির মধ্যে ১২টি বৈধ ঘোষণা

সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াত জোট মোট ১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে জামায়াতের জন্য ৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্য ২টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার জন্য একটি করে আসন বরাদ্দ ছিল।

যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা হলেন—

  • নূরুন্নিসা সিদ্দীকা
  • মারজিয়া বেগম
  • সাবিকুন্নাহার মুন্নী
  • নাজমুন নাহার নীলু
  • মাহফুজা হান্নান
  • সাজেদা সামাদ
  • শামছুন্নাহার বেগম
  • মারদিয়া মমতাজ
  • রোকেয়া বেগম
  • মাহমুদা আলম মিতু
  • তাসমিয়া প্রধান
  • মাহবুবা হাকিম

এই তালিকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পটভূমির প্রতিনিধিত্ব থাকায় জোটের ভেতরে সমন্বয় কৌশলেরও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

জামায়াত জোটের নারী আসন মনোনয়নে মনিরা শারমিন কেন ঝুলে গেলেন?

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর পার না হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

রিটার্নিং অফিসার জানান, মনিরা শারমিনের জমা দেওয়া কাগজপত্রে সরকারি পে-স্কেলের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হয়েছে। এ কারণেই তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র উপস্থাপনের পর মনিরার মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা পাবে।

নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন কেন গ্রহণ হয়নি

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এনসিপির পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন।

ইসির অবস্থান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার পর জমা পড়া মনোনয়নপত্র বিধি অনুযায়ী আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এ সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সময়সীমা ও বিধান মানার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র জোটের মনোনয়ন চিত্র

এবার সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে—

  • বিএনপি জোট দিয়েছে ৩৬টি মনোনয়নপত্র
  • জামায়াত জোট দিয়েছে ১৩টি
  • স্বতন্ত্র জোট দিয়েছে ১টি

এ ছাড়া বিএনপির আরও তিনজন পৃথকভাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন আইনের ব্যাখ্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ

মনিরা শারমিনের ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রার্থিতা প্রশ্ন নয়; এটি নির্বাচন আইনের প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে সরকারি চাকরি, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জোট রাজনীতিতে এই মনোনয়নের তাৎপর্য

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে অংশীদার দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন এই নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এনসিপিকে দুটি আসন এবং জাগপা ও খেলাফত মজলিসকে একটি করে আসন দেওয়ার মাধ্যমে জোটভিত্তিক সমন্বয় দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশেষ করে জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের অন্তর্ভুক্তি প্রতীকী গুরুত্বও বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সংখ্যার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থান ও জোট কাঠামোর পরীক্ষাও হয়ে উঠছে।

সামনে কী হতে পারে

আজ মনিরা শারমিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে জামায়াত জোটের ১৩টি মনোনয়ন পূর্ণাঙ্গভাবে বৈধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সিদ্ধান্ত বিপরীত হলে জোটের নির্ধারিত আসন বণ্টনেও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের নারী আসন মনোনয়ন শুধু একটি প্রার্থী যাচাইয়ের খবর নয়; এটি নির্বাচন আইন, জোট রাজনীতি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিত্ব—এই তিন স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

১২টি মনোনয়ন বৈধ হওয়া জোটের জন্য ইতিবাচক হলেও মনিরা শারমিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে। আজকের সিদ্ধান্ত এ নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত