যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫ জন, আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তদন্তে কাজ করছে এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন। হামলার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা কাজ শুরু করেন।
হামলার পর আহত ছয়জনকে হেনেপিন কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের একজন মারা গেছেন। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বন্দুক হামলায় একাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনায় যা জানা গেছে
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে মিনিয়াপোলিস পুলিশ বন্দুক হামলার খবর পায়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কয়েক ডজন পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়।
হামলার স্থান ছিল মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকার ১৫ ইস্ট গ্রান্ট স্ট্রিট ও এর আশপাশে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানায়।
তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পরও ওই এলাকার আশপাশে পথচারীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও আশপাশের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণভাবে থামানো হয়নি।
আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। হামলার পর আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য হেনেপিন কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। ফলে বন্দুক হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ হামলার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে। তবে হামলায় কারা জড়িত বা কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে হামলা
হামলার ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, মিনিয়াপোলিস কনভেনশন সেন্টার, কয়েকটি হোটেল এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে।
এ কারণে হামলার পর ওই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। কাছাকাছি থাকা সেন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনিয়াপোলিস ক্যাম্পাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানান, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবেই ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গভর্নর টিম ওয়ালজের প্রতিক্রিয়া
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তাঁর জননিরাপত্তা দল ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওয়ালজ বলেন, মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তিনি তাঁদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, মিনেসোটা রাজ্য জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করছে।
গভর্নরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে হামলার পর রাজ্য পর্যায়েও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে হামলার কারণ বা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার তদন্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও কাজ শুরু করেছে।
অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরো বা এটিএফ জানায়, ওই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পাওয়ার পর তাদের বিশেষ এজেন্টরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইও মিনিয়াপোলিসের বন্দুক হামলার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করছেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার এই বন্দুক হামলার বিষয়ে এফবিআই জানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
হামলার খবর পাওয়ার পর মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। কয়েক ডজন পুলিশের গাড়ি এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে হামলার স্থান ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করে। নিরাপত্তার কারণে সেন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনিয়াপোলিস ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এটিএফ ও এফবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যুক্ত হওয়ায় হামলার তদন্তে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে হামলার পেছনে কারা ছিল, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সোর্সে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাই তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অনুমান করা যাচ্ছে না। বর্তমানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এফবিআই ও এটিএফ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
কোথায় ঘটেছে এই হামলা
ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়। হামলার নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে ১৫ ইস্ট গ্রান্ট স্ট্রিট ও এর আশপাশের এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাটির আশপাশে আবাসিক ভবন, মিনিয়াপোলিস কনভেনশন সেন্টার, হোটেল ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এ কারণে হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা
মিনিয়াপোলিসের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে। এফবিআই ও এটিএফের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুধবার বিকেলে শুরু হয় এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশ প্রথম হামলার খবর পায়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে হামলাস্থল ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করে। নিরাপত্তার কারণে সেন্ট থমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনিয়াপোলিস ক্যাম্পাসও বন্ধ রাখা হয়।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এটিএফ ও এফবিআইয়ের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তবে হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তদন্তের পরবর্তী ফলাফল সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্যে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।





