এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (4)
এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন যারা
Website Feature Image (1)
আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে এক মাস সময় চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ
Website Feature Image (5)
ভারতের উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সরানো হচ্ছে হাজারো মানুষ
Website Feature Image (3)
মিরপুর-১ ও ১০-এ উচ্ছেদ বন্ধ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বনানীতে মানববন্ধন
Website Feature Image (17)
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা

মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা হাইকমিশন। BRM 2.0-এর মাধ্যমে নিরাপদে দেশে ফিরতে পাসপোর্ট, টিকিট ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া মানতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বৈধ কাজের ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান চলার মধ্যে সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম নথিহীন বাংলাদেশিদের জন্য চালু থাকা Migrant Repatriation Programme 2.0 বা BRM 2.0 সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নির্দেশনা কেন গুরুত্বপূর্ণ

হাইকমিশনের বার্তায় বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি নাগরিক ও কর্মীদের আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে দেশটির সরকার বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে।

মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কর্মসূচিটির আওতায় দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজের আবেদন নিজেকেই করতে হবে এবং দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও Program Repatriasi Migran 2.0-এর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

BRM 2.0-এর আওতায় দেশে ফিরতে যা প্রয়োজন

হাইকমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে প্রথমেই প্রয়োজন বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট।

যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই অথবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট বা TP নিতে পারবেন।

এরপর দেশে ফেরার জন্য একটি বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই হবে না; নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফেরার বিমান টিকিটও প্রস্তুত রাখতে হবে।

মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমান টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অনলাইন নির্দেশনাতেও পাসপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল ডকুমেন্ট এবং দেশে ফেরার টিকিটের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

ইমিগ্রেশন অফিসে নিজেকেই উপস্থিত হতে হবে

BRM 2.0-এর আবেদন প্রক্রিয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। ফলে যারা কর্মসূচির আওতায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে যেতে হবে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাতেও Program Repatriasi Migran-এর জন্য আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে।

আবেদন করার সময় যেসব কাগজপত্র রাখতে হবে

হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অফিসে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মূল বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট;
  • পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি;
  • সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন—দুই পাসপোর্ট;
  • বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কোনোটি বাদ পড়লে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে—এমন কোনো অতিরিক্ত তথ্য সোর্সে উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদনকারীদের হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফি ও জরিমানা সম্পর্কে সতর্কবার্তা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি এবং প্রযোজ্য জরিমানা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে।

তবে আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম।

এ কারণে পুরোনো বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

দালালকে টাকা না দেওয়ার আহ্বান

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত নথিহীন বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দালাল বা তৃতীয় পক্ষ সম্পর্কে সতর্কতা।

মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ চাইলে সতর্ক থাকতে হবে।

তার পরামর্শ হলো, আবেদনকারী যেন নিজের আবেদন নিজেই করেন এবং মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করেন।

এই সতর্কবার্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কর্মসূচির আওতায় দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সরাসরি নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করার পরামর্শ

বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নথিহীন বাংলাদেশিদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, যারা BRM 2.0-এর আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তারা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।

অর্থাৎ, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে নিজেদের পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিটের অবস্থা যাচাই করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় বিমান টিকিট সংগ্রহ করে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, Program Repatriasi Migran-এর জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নির্দেশনা অনুসরণে করণীয়

হাইকমিশনের বার্তার ভিত্তিতে দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে এমন—

প্রথম ধাপ: বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে বা মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: বাংলাদেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: মূল পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে।

ষষ্ঠ ধাপ: কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে বিশেষ সুবিধার নামে টাকা না দিয়ে সরাসরি সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত নথিহীন বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি এবং কর্মসূচির নিয়ম সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ফি, শর্তাবলি, প্রয়োজনীয় নথি এবং আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বৈধ নথি ছাড়া অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। BRM 2.0 কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট, নিশ্চিত বিমান টিকিট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে হবে।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ না দেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সর্বশেষ নিয়ম ও ফি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে নিশ্চিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত