কার টানে দেড় মাসের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে সাফা, শুটিং থেকে বিরতি নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বন্ধুর সঙ্গে দেখা ও পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে। ঘুরছেন নানা শহরে।
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে এবারই বড় ধরনের বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরতে গেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এবার শুধু অবকাশযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়; শৈশবের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়াও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিউইয়র্ক থেকে অস্টিন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন তিনি।
সাফা জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারে এমন দীর্ঘ ছুটি নেওয়ার ঘটনা তাঁর জন্য বিরল। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে এর আগে দেশের বাইরে গেলেও সেসব সফরের উদ্দেশ্য সাধারণত ছিল কাজ। শুধু ঘোরাঘুরির জন্য এত দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার সুযোগ এবারই পেয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই বড় ছুটি
অভিনয়ে সাফা কবিরের ক্যারিয়ার এক যুগের বেশি সময়ের। এই দীর্ঘ সময়ে নিয়মিত শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেই থাকতে হয়েছে তাঁকে। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ থেকে বিরতি নিয়ে শুধু ভ্রমণ ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়ার সুযোগ খুব একটা হয়নি।

সাফার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জায়গায় তিনি ঘুরেছেন। শুটিংয়ের প্রয়োজনে দেশের বাইরেও নিয়মিত যেতে হয়েছে। তবে নিছক ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্যে এত দিনের সফর তাঁর আগে হয়নি।
এবার সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দেড় মাস কাটাচ্ছেন। এর আগে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে শুটিংও করছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সফর নিয়ে সাফার বক্তব্যে আনন্দের বিষয়টিও স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই এমন একটি সফরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অবশেষে সুযোগ পাওয়ায় এখন সেখানে ভালো সময় কাটাচ্ছেন।
শৈশবের বন্ধুর টানেই যুক্তরাষ্ট্রে
সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ-এর অন্যতম প্রধান কারণ তাঁর শৈশবের সবচেয়ে কাছের এক বন্ধু। সাফা জানিয়েছেন, তাঁরা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছে অনেক স্মৃতি।
পরে সেই বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন তাঁদের দেখা হয়নি। ব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে ভালো সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি হয়নি। তাই এবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সাফা।
অভিনেত্রীর কথায়, ওই বন্ধু তাঁর বেস্ট ফ্রেন্ড। দীর্ঘদিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছেন। ফলে সফরটি সাফার কাছে শুধু ভ্রমণ নয়, পুরোনো সম্পর্ক ও স্মৃতির সঙ্গে আবার সময় কাটানোর সুযোগও হয়ে উঠেছে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছেন
বন্ধুর পাশাপাশি সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবার। তাঁর পরিবারের অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ফলে দীর্ঘ সময়ের এই সফরকে এক ধরনের পারিবারিক গেট টুগেদার হিসেবেও দেখা যায়।
সাফার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবাই নিজ নিজ জায়গায় ব্যস্ত। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ কমে গেছে। একই পরিস্থিতি বন্ধুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এই বাস্তবতা থেকেই এবারের গ্রীষ্মের সময়টাকে তিনি ভিন্নভাবে কাজে লাগিয়েছেন। কাজের ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে নিজের জন্য এবং কাছের মানুষদের জন্য সময় বরাদ্দ করেছেন।
সাফা জানিয়েছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সবার সঙ্গে দেখা করা এবং একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করা। তাই নিজের পাশাপাশি প্রিয় মানুষদেরও সময় দেওয়াকে তিনি সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
নিউইয়র্ক থেকে অস্টিন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেক্সিকো
সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ শুরু হয়েছে নিউইয়র্ক থেকে। এরপর তিনি অস্টিন ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছেন। সফরের তালিকায় রয়েছে মেক্সিকোও।
অর্থাৎ এই দেড় মাসের ছুটিতে সাফা শুধু একটি শহরে অবস্থান করছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে থাকা পরিচিতজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও নিচ্ছেন।
তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, এবারের সফরের পরিকল্পনায় কাজের কোনো ব্যস্ততা নেই। বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা দেখা-সাক্ষাৎ এবং ভ্রমণের ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুটিংয়ের বাইরে নিজেকে সময় দিচ্ছেন সাফা
অভিনেতাদের ক্যারিয়ারে শুটিংয়ের ব্যস্ততা নিয়মিত বিষয়। সাফা কবিরের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে কাজের ব্যস্ততা ছিল। তাই এবার সেই ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়ে নিজের সময়কে নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সাফার কথায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সফরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এবার সুযোগ পাওয়ার পর সেটিকে কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর কাছে এই সময়টি নিজের এবং নিজের মানুষদের জন্য।
এখানে ভ্রমণের পাশাপাশি সম্পর্কগুলোর গুরুত্বও সামনে এসেছে। শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং একসঙ্গে ঘোরাঘুরি—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এবারের সফরের পরিকল্পনা।
দেড় মাসের ছুটির পেছনে মূল কারণ
সাফার বক্তব্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ ছুটির পেছনে একক কোনো কারণ নেই। শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে দেখা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোও বড় কারণ।
এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগটিও তিনি নিচ্ছেন। নিউইয়র্ক, অস্টিন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেক্সিকো সফরের মধ্য দিয়ে সেই ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তাই সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে শুধু তারকা অভিনেত্রীর বিদেশ সফর হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। তাঁর নিজের বক্তব্যে এটি মূলত দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সুযোগ।
দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষদের কাছে
সাফা জানিয়েছেন, বর্তমানে সবাই যার যার জায়গায় ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত দেখা করা সম্ভব হয় না। ফলে কাছের মানুষদের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও কমে গেছে।
এবার সেই দূরত্ব কিছুটা কাটিয়ে উঠছেন তিনি। শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে দেখা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর সফরের বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
সাফার কাছে এই সময়টি তাই ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে তিনি এমন কিছু মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক ও স্মৃতি রয়েছে।
সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিয়ে শেষ কথা
দীর্ঘ এক যুগের বেশি ক্যারিয়ারে শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে সাফা কবিরের জন্য এত দীর্ঘ অবকাশ নেওয়া সাধারণ ঘটনা নয়। এবার দুই মাসের বেশি সময় শুটিং থেকে বিরত থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দেড় মাস কাটাচ্ছেন তিনি।
সাফা কবিরের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ-এর প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে সামনে এসেছে শৈশবের বেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। নিউইয়র্ক থেকে অস্টিন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও মেক্সিকো—সফরের বিভিন্ন পর্বে এই পরিকল্পনাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাফার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক দিন পর তিনি কাছের মানুষদের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের চাওয়া একটি ভ্রমণও এবার বাস্তবে পরিণত হয়েছে।





