৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাঁচ দফায় সরবরাহ। ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, দর নির্ধারণ আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক।
দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এসব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নেওয়া হবে। পাঁচ কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট পাঁচটি সময়ে একটি করে কার্গো এলএনজি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।
কোন সময়ে আসবে ৫ কার্গো এলএনজি

সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মিলিয়ে পাঁচ দফায় এলএনজি সরবরাহ নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়গুলো হলো—
- ২৩-২৪ আগস্ট
- ২৬-২৭ আগস্ট
- ২৯-৩০ আগস্ট
- ১-২ সেপ্টেম্বর
- ৪-৫ সেপ্টেম্বর
অর্থাৎ, আগস্টের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পাঁচ কার্গো এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলএনজি কিনতে ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা
সরকারের প্রস্তাবে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মূল্যসূচকের ভিত্তিতে এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১৫ দশমিক ৫০ থেকে ২১ দশমিক ৮৮ মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য, সরবরাহের ঝুঁকি এবং আলোচনার ভিত্তিতে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ঝুঁকি এলএনজি আমদানির ব্যয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যুক্তরাজ্য ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় পাওয়া দরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচন করে পাঁচ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
এলএনজির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মূল্যসূচক অনুসরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি, উচ্চ আন্তর্জাতিক মূল্য এবং সরবরাহ ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ
দেশে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করছে। নতুন করে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবের আওতায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচটি পৃথক সময়ে এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া গেলে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তা সরকারের চলমান আমদানি কার্যক্রমে যুক্ত হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রভাব
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবারের প্রস্তাবেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মূল্যসূচকের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১৫ দশমিক ৫০ থেকে ২১ দশমিক ৮৮ মার্কিন ডলার নির্ধারণের বিষয়টি প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দর নির্ধারণে বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য, সরবরাহ ঝুঁকি এবং আলোচনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ফলে পাঁচ কার্গো এলএনজি সংগ্রহে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে।
৫ কার্গো এলএনজি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি কার্গো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে সরবরাহ নেওয়া হবে। প্রথম চালানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩-২৪ আগস্ট। এরপর পর্যায়ক্রমে ২৬-২৭ আগস্ট, ২৯-৩০ আগস্ট, ১-২ সেপ্টেম্বর এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বর এলএনজি সরবরাহের কথা রয়েছে।
এই পাঁচটি সরবরাহের জন্য যুক্তরাজ্য ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য
গ্যাস সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখাই এই এলএনজি আমদানির প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে। নতুন পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগও সেই প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেই সরকার এবারের পাঁচ কার্গো কেনার জন্য দর নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সরবরাহ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।
দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন করে ৫ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচটি নির্ধারিত সময়ে এসব এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যুক্তরাজ্য ও ওমানের দুটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১৫ দশমিক ৫০ থেকে ২১ দশমিক ৮৮ মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করছে। নতুন পাঁচ কার্গো কেনার প্রস্তাব সেই চলমান উদ্যোগেরই অংশ।





