পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উদ্বোধনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও সক্ষমতা দিয়ে কাজ করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১০ মে) সকালে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশের বর্ণিল প্যারেড, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের আত্মমর্যাদা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বাহিনীর সদস্যরা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা এখন শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে হামলা-মামলা ও নিপীড়নের শিকার মানুষ বর্তমান সময়ে নিরাপদ পরিবেশ চায়। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ওপর জনগণের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ ও জননিরাপত্তার প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সদস্যদের সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করতে হবে। এটিই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
তার ভাষায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখা জরুরি।
তিনি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখার আহ্বান জানান।
জাতীয় নির্বাচন ও পুলিশের ভূমিকা
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।
তার মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ধরনের দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সক্ষমতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম
নারী পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা
উদ্বোধনী বক্তব্যে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তার মতে, নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাহিনীর সক্ষমতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের ভেতরেও জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন, দেশের জনগণের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত।
তিনি মনে করেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ নয়, মানবিক মনোভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: চার দিনের কর্মসূচি
এবারের পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ রবিবার শুরু হয়ে আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত চলবে। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম, মূল্যায়ন, সম্মাননা এবং নীতিগত আলোচনা এ সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আয়োজন পরিচালিত হচ্ছে। এতে পুলিশের পেশাদারিত্ব, জনসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জননিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জননিরাপত্তাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।
বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সরকারের প্রধান প্রত্যাশাগুলোর একটি বলেও বক্তব্যে উঠে আসে।




