বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী, নিউইয়র্কে ৩ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠক করেছেন। এসব প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক-এ বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব এ কে এম নাজমুল হক এসব বৈঠকের তথ্য জানিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠকে ৩ দেশের সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠক। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়সূচিতে ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সুইডেনের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্ব
সুইডেনের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএ আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশ ও সুইডেনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাতের সহযোগিতার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা জোরদার এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এর ফলে নিউইয়র্ক সফরের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিতে শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নয়, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো সামাজিক খাতও আলোচনার অংশ হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিষয়গুলোও আলোচনায় ছিল। এসব খাতকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে মতবিনিময় করা হয়।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দিকগুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সুইডেনের সঙ্গে আলোচনায় স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আন্তর্জাতিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর আলোচনা
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলোর আরেকটি অভিন্ন বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বয় বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থের আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ তৈরি হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বহুপক্ষীয় আলোচনার অন্যতম প্রধান ফোরাম।
এ প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়টি স্থান পেয়েছে।
নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে আরও বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনার লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়েছে—বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির মতো ক্ষেত্রে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কসহ একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকগুলোর গুরুত্ব কোথায়
প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে আলোচনার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্কের একাধিক দিক এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একদিকে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা। এর পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং স্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতার বিষয় সামনে এসেছে।
ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনীতি থেকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুইডেনের সঙ্গে আলোচনায় স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা গেছে।
ফলে নিউইয়র্ক সফরের এসব বৈঠককে বাংলাদেশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার একটি কূটনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো নতুন চুক্তি বা প্রকল্প চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে মূলত সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।





