রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা নিহত অন্তত ১৭, ঘটেছে ইনগু বাজারে। পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অনেক ভবন ধ্বংস হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।
মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের ইয়োই নগু গ্রামে মঙ্গলবার জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুইটি স্থানীয় সূত্র। এই হামলা মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের অধীনে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইয়োই নগু বাজারে এই বিমান হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরাকান আর্মি জানিয়েছে নিহতের সংখ্যা ১৭

বিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি জানিয়েছে, ইয়োই নগু গ্রামের বাজারে চালানো হামলায় “নিরীহ বেসামরিক মানুষ” নিহত হয়েছে ১৭ জন। তারা বলেন, হামলা চলাকালীন বাজারে প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পোননগিউন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (পিওয়াইএ) ১৮ জন মৃত দাবি
অন্যদিকে পোননগিউন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (পিওয়াইএ) হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৮ জন বলেছে। পিওয়াইএর চেয়ারম্যান পিয়ে ফিও নাইং হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন,
“দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। চার থেকে পাঁচটি ভবন পুড়ে গেছে এবং অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।”
২৩ বছর বয়সী এই স্বেচ্ছাসেবী নেতা আরও বলেন,
“কিছু মানুষ কাঁদছিলেন, অনেক মৃতদেহ পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আমরা পৌঁছনোর সময়ও কিছু বাড়িতে আগুন জ্বলছিল, আর অনেক মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল।”
রাখাইন বিমান হামলার প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই বিমান হামলার ফলে ইয়োই নগু গ্রামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিপন্ন হয়েছে। বাজার ও আশেপাশের এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ এই অঞ্চলে বেসামরিকদের উপর প্রায়শই ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।
বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন BBC রিপোর্ট করেছে, রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা প্রায়শই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
রাখাইন বিমান হামলা: শিকর টিভি কভারেজ
শিকর টিভি কানাডা’র রাখাইন বিমান হামলা সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও বেসামরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করতে কাজ করছে।
ভবিষ্যতের সতর্কতা ও মানবিক সহায়তা
রাখাইন বিমান হামলা পরিস্থিতি প্রমাণ করে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। আহতদের চিকিৎসা, মৃতদের পরিবারকে সহায়তা এবং বাজার পুনর্গঠন প্রয়োজন।




