শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে মাউশি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে হবে, সঙ্গে জিওসহ প্রয়োজনীয় নথি।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের জনবলের বেতনসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ ও গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর অংশ হিসেবে অধীন সব অফিস ও প্রতিষ্ঠানের জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্ধারিত ছকে চেয়েছে অধিদপ্তর। শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে তথ্য পাঠানোর জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মাউশি থেকে এ বিষয়ে চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন কার্যক্রম আরও সহজ করা এবং এসব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে iBAS++-এর Organogram sub-module-এ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংযুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নে কেন তথ্য চাওয়া হয়েছে
মাউশির চিঠিতে বলা হয়েছে, iBAS++-এর Organogram sub-module-এর ডেটাবেইসে প্রতিষ্ঠানওয়ারি জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পদ বা পদবি, মূল গ্রেড এবং পদসংখ্যার মতো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এই তথ্য প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল কাঠামো ও পদসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে iBAS++-এর Pay Fixation-sub-system-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য মাউশি অধিদপ্তর এবং এর অধীন মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর প্রতিষ্ঠানওয়ারি জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য Organogram sub-module-এ এন্ট্রি করা প্রয়োজন।
৭ অক্টোবরের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
নির্ধারিত ছকে কয়েকটি নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ক্রমিক নম্বর, পদের নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, পদের মূল গ্রেড বা substantive grade, পদসংখ্যা এবং মন্তব্য।
ফলে শিক্ষকদের পে স্কেল সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তথ্য সাজিয়ে পাঠাতে হবে। চিঠিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনাম কমিশনের পর সৃষ্ট পদও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
মাউশির চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, iBAS++-এর Pay Fixation-sub-system-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাউশির অধীন মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে এনাম কমিশনের পরে সৃষ্ট পদগুলোও Organogram sub-module-এ এন্ট্রি করতে হবে।
এ জন্য অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখার—যা আগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অধিশাখা নামে পরিচিত ছিল—পৃষ্ঠাঙ্কনকৃত জিওসহ প্রতিষ্ঠানওয়ারি জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
এ নির্দেশনার মাধ্যমে শুধু বিদ্যমান জনবলের সাধারণ তথ্য নয়, এনাম কমিশনের পরে সৃষ্টি হওয়া পদগুলোকেও সংশ্লিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তথ্যের পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করার জন্য এই তথ্য সংযোজনের প্রয়োজনীয়তার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হার্ড কপি ও সফট কপি পাঠানোর নিয়ম
মাউশির নির্দেশনায় তথ্য পাঠানোর মাধ্যমও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোকে তথ্যের হার্ড কপি পাঠাতে হবে মাউশির উপপরিচালক, এইচআরএমের কাছে।
হার্ড কপি পাঠানোর ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—উপপরিচালক, এইচআরএম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), ঢাকা, রুম নম্বর-৫৩০।
এতে বোঝা যায়, শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য শুধু কাগজে তথ্য জমা দিলেই হবে না; একই তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে ডিজিটালভাবেও পাঠাতে হবে।
iBAS++-এর Organogram ও Pay Fixation ব্যবস্থার ভূমিকা
মাউশির চিঠিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার কথা এসেছে—Organogram sub-module এবং Pay Fixation-sub-system। প্রথমটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবল, পদ ও গ্রেডের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যদিকে Pay Fixation-sub-system-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলেই মাউশি প্রতিষ্ঠানওয়ারি জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে। শিক্ষকদের পে স্কেল সংক্রান্ত বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সঠিক পদ, গ্রেড ও পদসংখ্যার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাই নির্দেশনার কেন্দ্রীয় অংশ।
মাউশির চিঠিতে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন কার্যক্রম সহজ করার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্ধারিত ছকে যেসব তথ্য দিতে হবে
নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠানো তথ্যে অন্তত পাঁচ ধরনের বিষয় থাকতে হবে। এগুলো হলো—
- ক্রমিক নম্বর
- পদের নাম বাংলা ও ইংরেজিতে
- পদের মূল গ্রেড বা substantive grade
- পদসংখ্যা
- মন্তব্য
এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানওয়ারি জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং প্রয়োজনীয় জিও সংযুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে।
তথ্য পাঠানোর আগে নির্ধারিত ছকের প্রতিটি ঘরে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী এসব তথ্য iBAS++-এর Organogram sub-module-এ এন্ট্রি এবং পরবর্তী বেতন নির্ধারণী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বচ্ছতা ও বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাউশির এই নির্দেশনা একটি প্রশাসনিক তথ্যসংগ্রহ প্রক্রিয়ার অংশ। শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জনবল, পদ ও গ্রেডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডেটাবেইস হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বেতন-ভাতা ও পেনশন কার্যক্রম সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে এনাম কমিশনের পরে সৃষ্টি হওয়া পদগুলোর তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রস্তুত করে পাঠানোই তাৎক্ষণিক কাজ। ৭ অক্টোবরের সময়সীমা অনুযায়ী হার্ড কপি এবং নির্ধারিত ফরম্যাটে সফট কপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে যা মনে রাখা প্রয়োজন
শিক্ষকদের পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তথ্য পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের মাউশির নির্ধারিত ছক অনুসরণ করতে হবে। পদের বাংলা ও ইংরেজি নাম, substantive grade, পদসংখ্যা এবং মন্তব্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানওয়ারি পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।
এ ছাড়া এনাম কমিশনের পরে সৃষ্ট পদগুলোর তথ্য Organogram sub-module-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যের হার্ড কপি মাউশির এইচআরএম শাখার রুম নম্বর-৫৩০-এ এবং সফট কপি Nikosh ফন্টে Word Document হিসেবে নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে মাউশির এই তথ্যসংগ্রহ তাই সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে।





