এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (42)
মক্কা-মদিনায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, হামলার দাবি অস্বীকার হুতির
News Photocard (18)
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই, জেলেনস্কিকে কটাক্ষ
News Photocard (9)
কানাডায় সামরিক মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ সেনা সদস্য নিহত
News Photocard (3)
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে রুশ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার আশা, দরপতন বিশ্ববাজারে
News Photocard (19)
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ ব্যর্থ : রিপোর্ট

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তেহরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তুলে ধরলেও তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ খোলা রেখেছেন তিনি। ফলে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত একটি খবরকে অস্বীকার করেছে তেহরান।

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে কী বলেছেন ট্রাম্প?

শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, রোববারের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভালো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে চুক্তি হলে ইরান সেটি মেনে চলবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় দুটি—একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ। তবে ২৫ অক্টোবর হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মন্তব্য থেকে সামরিক পদক্ষেপের সময়, ধরন কিংবা সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর প্রশাসনের সামরিক কৌশলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনী ইরানে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অধিকাংশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৫৯টি জাহাজ ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই কিংবা অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটি বর্তমানে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির মুখোমুখি।

তবে মুদ্রাস্ফীতির হার, এর সময়কাল কিংবা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তাঁর নিজের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা জরুরি।

সামরিক চাপ ও কূটনীতির দ্বৈত বার্তা

ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনার পাশাপাশি চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তেহরান চুক্তি করতে আগ্রহী বলে দাবি করেছেন।

এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই দিকই সামনে এসেছে। তবে কোনো চুক্তির শর্ত, আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

তাই ইরানে মার্কিন হামলা অনিবার্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও নেই।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অস্বীকৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরান দিয়েছে—এমন খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

এই অস্বীকৃতি দুই দেশের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। তবে প্রদত্ত সংবাদে প্রণালিটির বর্তমান নৌ চলাচলের অবস্থা, অবরোধের বিস্তারিত পরিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো নতুন সিদ্ধান্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রকাশিত নির্দিষ্ট প্রস্তাবের খবর অস্বীকার করেছে ইরান। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি বা তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে তেহরান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু হামলার পরিকল্পনা ‘উন্নত পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

তবে কোন কোন দূতাবাস থেকে কতজন কর্মী কমানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, কথিত পরিকল্পনাগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য বা হামলার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক স্থাপনা ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত আশঙ্কা এবং বাস্তবে সংঘটিত হামলার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা নিয়েও নজরদারি

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য তৎপরতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঞ্চলে হুতিরা হামলা আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। এ কারণে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে হুতিদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার ঘোষণা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তথ্য কিংবা হামলার সময়সূচি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, নিশ্চিতভাবে ঘটতে যাওয়া কোনো ঘটনা হিসেবে নয়।

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

২৫ অক্টোবর কী ঘটতে পারে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবরের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি চুক্তির মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন।

এখন পর্যন্ত প্রদত্ত প্রতিবেদনে নতুন হামলার চূড়ান্ত ঘোষণা, নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু কিংবা অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কথিত প্রস্তাব অস্বীকার করেছে তেহরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের তথ্যও সামনে এসেছে। এসব বিষয় পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে।

পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত