দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এই যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি ঘিরে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে লিমনের মরদেহ গ্রহণ
সোমবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ এসে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণ করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সেখানে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ কার্যক্রম তদারকি করেন। তিনি বলেন, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
লিমনের মরদেহ গ্রহণের সময় তার মামা জানান, মরদেহটি জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার: কূটনৈতিক তৎপরতা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। উদ্দেশ্য হলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু লিমন নয়, আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি সম্পর্কেও সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এই যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ইস্যু এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
নিখোঁজ থেকে হত্যাকাণ্ড: পুরো ঘটনা
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন।
পরবর্তীতে ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েক দিনের ফরেনসিক পরীক্ষার পর ৩০ এপ্রিল নিশ্চিত হয় বৃষ্টির মরদেহও শনাক্ত করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর তদন্তে অগ্রগতি আসে দ্রুত। পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে।
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কে?
তদন্তে জানা যায়, লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
এর ভিত্তিতে হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
এই ঘটনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফেরত প্রক্রিয়া
সরকার জানিয়েছে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রে জানাজা শেষে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার সংক্রান্ত ঘটনায় দুই দেশের কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষাজীবন ও পরিচয়
জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
দুইজনই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। একই ধরনের ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।
শামা ওবায়েদের বক্তব্য
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন,
সরকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও জানান, দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে।




