আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
মেসি-ইয়ামালকে নিয়ে যে মন্তব্য করলেন বার্সা সভাপতি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার সেমিফাইনালে উঠেছে কোন দল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় ফ্রান্সের

বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে জোয়ার, অর্থ পাবে বাংলাদেশও

বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে জোয়ার, অর্থ পাবে বাংলাদেশও, প্রাইজমানি এবার রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। ৪৮ দলের আসরে বাংলাদেশও ফিফার ফুটবল উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম বিশ্বকাপে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার অর্থ ঘোষণা করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার আয় থেকে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অর্থ বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী, এই অর্থের অংশ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বিষয়টি নিয়ে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু জানিয়েছেন, ফিফার আয়ের একটি অংশ বাংলাদেশসহ সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া হয়।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। এরপর ধাপে ধাপে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়েছে। ১৬ দল থেকে ২৪ এবং পরে ৩২ দলের আসর পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবে ৪৮টি দেশ।

দলসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে টুর্নামেন্টের পুরস্কার অর্থেও। এবারের আসরে ঘোষিত বিশ্বকাপের প্রাইজমানি গত আসরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এবার রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার

এবারের বিশ্বকাপে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি একটি বড় আর্থিক অঙ্ক।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল শুরুতেই ট্রেনিং ক্যাম্প ও যাতায়াত খরচের জন্য ২.৫ মিলিয়ন ডলার পাবে। এরপর মাঠের পারফরম্যান্স অনুযায়ী দলগুলোর আয় আরও বাড়বে।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। অর্থাৎ, শুরুতে পাওয়া ২.৫ মিলিয়নসহ তাদের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে ১২.৫ মিলিয়ন ডলারে।

পরবর্তী ধাপগুলোতে উঠলে পুরস্কারের অঙ্কও ধাপে ধাপে বাড়বে।

কোন ধাপে কত অর্থ পাবে দলগুলো?

দ্বিতীয় রাউন্ডে থেমে যাওয়া দলগুলো পাবে ১২ মিলিয়ন ডলার। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৬ মিলিয়ন ডলার করে।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া চার দল পাবে ২০ মিলিয়ন ডলার করে। এরপর তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার।

চতুর্থ হওয়া দলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৭ মিলিয়ন ডলার। ফাইনালে হেরে যাওয়া রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

আর বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত হয়েছে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে আসতে পারে বড় অর্থ

বিশ্বকাপের মূল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না। তবে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে দেশের ফুটবল উন্নয়নে অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটি বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে বণ্টন করে। ফলে এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবলের গভর্নিং বডি বা গেম ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের জন্য অর্থ পেতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করবে, তার একটি অংশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশন পাবে। তাঁর মতে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে সহায়তা করাই ফিফার আয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এই অর্থ উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উৎস পাঠে অর্থের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা বণ্টনের বিস্তারিত কাঠামো উল্লেখ করা হয়নি।

৪৮ দলের বিশ্বকাপ কেন গুরুত্বপূর্ণ

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব ফুটবলের আরও বেশি দেশ মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু দলসংখ্যা বাড়ানোর ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দল বাড়লে অন্যান্য দেশও বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহিত হয়।

বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ার ফলে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সুযোগও বিস্তৃত হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে বাছাইপর্বে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হলেও সেই জায়গা নিশ্চিত করতে দলগুলোকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

পুরস্কারের অর্থে কেন এত বড় পরিবর্তন

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টুর্নামেন্টের আকার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর বাণিজ্যিক মূল্যও। ১৩ দলের প্রথম আসর থেকে ৪৮ দলের বর্তমান বিশ্বকাপ—এই দীর্ঘ সময়ে ফুটবল বিশ্বব্যাপী আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।

দলের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার বিস্তার এবং ফিফার আয় বৃদ্ধির সঙ্গে পুরস্কার অর্থও বেড়েছে। এবারের ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের ঘোষণা সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

গত বিশ্বকাপের তুলনায় এবার পুরস্কার অর্থ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ফলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বিশ্বকাপ শুধু মর্যাদার লড়াই নয়, আর্থিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট।

বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হতে পারে

ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য অর্থ সহায়তার নীতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলও এই বৈশ্বিক আয়ের অংশীদার হতে পারে।

বিশ্বকাপের পর ফিফার সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অর্থ বণ্টন করা হলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেই প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে। এই অর্থ দেশের ফুটবল উন্নয়ন, গেম ডেভেলপমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ ঠিক কত অর্থ পাবে, তা উৎস পাঠে উল্লেখ করা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট অঙ্কের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক

এবারের বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক কাঠামো ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকে সামনে এনেছে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আসরে শুধু চ্যাম্পিয়ন দলই নয়, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলই উল্লেখযোগ্য অর্থ পাবে।

গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দল থেকে শুরু করে রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়ন—প্রতিটি ধাপেই পুরস্কারের অর্থ নির্ধারিত হয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দলগুলোর আর্থিক লাভের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণের দিক থেকে নয়, পুরস্কার অর্থের দিক থেকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বিশ্বকাপের প্রাইজমানি থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বড় অঙ্কের অর্থ পাবে।

একই সঙ্গে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য অর্থ বণ্টনের নীতির কারণে বাংলাদেশও বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে ফুটবল উন্নয়নের জন্য অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর বক্তব্য অনুযায়ী, ফিফার আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

তবে বাংলাদেশ ঠিক কত অর্থ পাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনো উল্লেখ করা হয়নি। নিশ্চিত বিষয় হলো, বিশ্বকাপের পরিধি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব যত বাড়ছে, তার প্রভাব বিশ্ব ফুটবলের সদস্য দেশগুলোর ওপরও পড়ছে।

সর্বাধিক পঠিত