‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের, ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ফ্রান্স। ম্যাচটি নিয়ে অনীহা থাকলেও বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য জয় চান ইব্রাহিম কোনাতে।
গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ফ্রান্স এবার সেমিফাইনালেই থেমে গেছে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পরও টুর্নামেন্ট থেকে এখনই বিদায় নেওয়ার সুযোগ নেই কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। মিয়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে তাদের। ম্যাচটি নিয়ে দুই দলেরই অনীহা থাকলেও বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমকে জয় উপহার দিতে চান ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে।
সেমিফাইনালে থেমে গেছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

শেষ চার পর্যন্ত পৌঁছেও এবার ফাইনালে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সুযোগ হারিয়েছে দলটি। সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই ফরাসি শিবিরে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ দুই দলকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হয়। তাই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—দুই দলই এখন শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে।
এই ম্যাচের গুরুত্ব ফাইনালের তুলনায় অনেক কম। ফলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ম্যাচটি নিয়ে তীব্র আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে অনীহা
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে তারা খুব একটা অর্থবহ মনে করছেন না। এবার একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছে ফ্রান্সও।
ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে তো ম্যাচটিকে মজার ছলে ‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মন্তব্যে স্পষ্ট, বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগ্রহ খেলোয়াড়দের মধ্যে খুব বেশি নেই।
তবে অনীহা থাকলেও ম্যাচটি জেতার একটি বিশেষ কারণ খুঁজে পেয়েছেন কোনাতে। আর সেই কারণটি হলো ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়।
দেশমকে জয় উপহার দিতে চান কোনাতে
ফ্রান্সের ডাগআউটে দিদিয়ের দেশমের এটি শেষ ম্যাচ। দীর্ঘ সময় ফরাসি ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই কিংবদন্তি কোচের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে।
তাই ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে খেলোয়াড়দের অনীহা থাকলেও দেশমকে সম্মানজনক বিদায় দিতে চান কোনাতে। তার মতে, দলের জন্য দেশম যা করেছেন, তার প্রতিদান হিসেবে শেষ ম্যাচে জয় এনে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কোনাতে বলেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে দলের কেউই খুব আগ্রহী ছিল না। কিন্তু যেহেতু ম্যাচটি খেলতেই হচ্ছে, তাই তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়বেন।
তার বক্তব্যের সারকথা হলো, ম্যাচটি ‘চকলেট মেডেল’ বা ব্রোঞ্জ মেডেলের লড়াই—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, দেশমের বিদায়ী ম্যাচে ফ্রান্স জয় পেতে চায়। কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটিই হতে পারে দলের শেষ সুযোগ।
ম্যাচটি নিয়ে বিরক্তি লুকাননি দিদিয়ের দেশম
খেলোয়াড়দের মতো দিদিয়ের দেশমও ম্যাচটির গুরুত্ব নিয়ে নিজের বিরক্তি গোপন করেননি। তবে কোচ হিসেবে দায়িত্বের জায়গা থেকে তিনি বিষয়টিকে দেখছেন।
দেশমের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। এটি একটি অফিশিয়াল ম্যাচ। তাই খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করা।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এই ম্যাচের গুরুত্ব বিশ্বকাপ ফাইনালের তুলনায় অনেক কম। ইংল্যান্ড যেমন এই ম্যাচ খেলতে চায় না, ফ্রান্সও তেমন আগ্রহী নয়। তারপরও টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী দুই দলকেই মাঠে নামতে হচ্ছে।
দেশমের এই বক্তব্যে বোঝা যায়, ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে দলের ভেতরে বাস্তব অবস্থাটা কী। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় এখন ম্যাচটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ ম্যাচে আবেগ নয়, লক্ষ্য তৃতীয় হওয়া
নিজের বিদায়ের ম্যাচকে ঘিরে আবেগপ্রবণ হতে চান না দিদিয়ের দেশম। বরং ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়দের তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
দেশমের মতে, ফ্রান্সের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—তৃতীয় হওয়া। জাতীয় দলের জার্সির একটি মর্যাদা রয়েছে এবং সেই মর্যাদা রক্ষা করা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এটি তার শেষ ম্যাচ হলেও তিনি চান না কেউ কাঁদুক বা অতিরিক্ত আবেগে ভেসে যাক। একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে পারে, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না—এমন বার্তাই দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
তার বক্তব্যে বিদায়ের আবেগের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দেরও এখন কোচের শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
ব্রোঞ্জ মেডেলের লড়াইয়ে কী হবে?
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—দুই দলের কাছেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি ম্যাচ কখনোই পুরোপুরি অর্থহীন নয়।
ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের কারণে। কোচের দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ ম্যাচে জয় এনে দিতে পারলে সেটি হবে তার জন্য একটি সম্মানজনক বিদায়।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা নিজেদের জার্সির মর্যাদা রক্ষার কথাও বলেছেন। ফলে ম্যাচটি নিয়ে অনীহা থাকলেও মাঠে নামার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা কম হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এই ম্যাচের আগে ফরাসি শিবিরে তাই দুটি বিষয় পাশাপাশি রয়েছে। একদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা, অন্যদিকে প্রিয় কোচ দিদিয়ের দেশমকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর আকাঙ্ক্ষা।
শেষবারের মতো ফরাসি ডাগআউটে দেশম
দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ হওয়ায় ফ্রান্সের এই লড়াইয়ের আলাদা আবেগ রয়েছে। তবে দেশম নিজেই খেলোয়াড়দের আবেগে ভেসে না গিয়ে দায়িত্ব পালনের বার্তা দিয়েছেন।
ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা ম্যাচটি খেলতে খুব বেশি আগ্রহী না হলেও, শেষ পর্যন্ত তাদের সামনে একটি স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে—তৃতীয় স্থান অর্জন করা এবং কোচকে জয় দিয়ে বিদায় জানানো।
বিশ্বকাপের শেষ চারে থেমে গেছে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হচ্ছে দলটিকে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ম্যাচটি নিয়ে অনীহা থাকলেও ফ্রান্সের জন্য এটি দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচ।
ইব্রাহিম কোনাতে জানিয়েছেন, ব্রোঞ্জ মেডেল বা ‘চকলেট মেডেল’—যে নামেই বলা হোক, দেশমকে সম্মানজনক বিদায় দিতে ফ্রান্স সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে দেশমও আবেগ নয়, জাতীয় দলের জার্সির মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাই অনীহা থাকলেও মিয়ামি স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে। ফ্রান্সের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন এবং বিদায়ী কোচকে জয় উপহার দেওয়া।





