আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ৩ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের, তবে মালিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার–সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) প্রকাশিত হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফ্লাই বাগদাদের তিনটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির পরিচালিত দুটি বোয়িং ৭৩৭ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাটির মালিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
বুধবার ওএফএসি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। যদিও এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
ফ্লাই বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: কী পরিবর্তন হলো?
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্লাই বাগদাদের তিনটি নিবন্ধিত করপোরেট পরিচয় আর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই। এগুলো হলো—

- ফ্লাই বাগদাদ এয়ারলাইনস কোম্পানি
- ফ্লাই বাগদাদ
- ইরাক এক্সপ্রেস
এ ছাড়া সংস্থাটির পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭ মডেলের দুটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজও নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজ দুটির নিবন্ধন নম্বর হলো YI-BAF এবং YI-BAN।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এই অব্যাহতির পেছনের কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে ঠিক কোন বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কোন নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল?
যদিও ফ্লাই বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে, তবে এটি সংস্থাটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সংস্থাটির মালিক হিসেবে তালিকাভুক্ত ইরাকি নাগরিক বশির আবদুলকাধিম আলওয়ান আল-শাব্বানি এখনো নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।
এছাড়া তার পরিচিতির তথ্যও হালনাগাদ করা হয়েছে। নতুন তথ্যে তার সঙ্গে সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিশেষ বিদেশি শাখা কুদস ফোর্সের সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। আগে সেখানে মূলত ফ্লাই বাগদাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য ছিল।
কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল?
যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাই বাগদাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমান সংস্থার পাশাপাশি এর উড়োজাহাজ বহর এবং প্রধান নির্বাহীকেও সেই সময় নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ফ্লাই বাগদাদ ইরাক, সিরিয়া এবং লেবাননে আইআরজিসির কুদস ফোর্স ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ককে পরিবহন এবং সরবরাহ-সংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংস্থা, এর বিমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট
ফ্লাই বাগদাদের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মাহান এয়ারকে সহায়তার অভিযোগে আন্তর্জাতিক কয়েকটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাহান এয়ারের সঙ্গে আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অন্যদিকে ফ্লাই বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—দুটি পদক্ষেপ একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই সিদ্ধান্তকে কোনো বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেনি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাই বাগদাদের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিমান সংস্থার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে সীমিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে এই মূল্যায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী?
ওএফএসি স্পষ্ট করেছে, এটি কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি করপোরেট সত্তা এবং দুটি উড়োজাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় পুরো প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়নি।
ফলে ফ্লাই বাগদাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ফ্লাই বাগদাদের তিনটি করপোরেট পরিচয় এবং দুটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে সংস্থাটির মালিক বশির আবদুলকাধিম আলওয়ান আল-শাব্বানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।





