এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (32)
সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যাঃ মাটিচাপা দেওয়ার পরও চাওয়া হচ্ছিল মুক্তিপণ
Untitled design (6)
তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকঃ শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা
Untitled design (3)
ক্ষমতা ছাড়তে পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
Untitled design
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার অনুরোধ তারেক রহমানের
Untitled design (9)
ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

বঙ্গোপসাগরে নিশ্চিত জ্বালানি আছে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারঃ নৌমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে নিশ্চিত জ্বালানি আছে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সমুদ্রসীমার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

রাজধানীতে বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের জ্বালানি সম্পদ কেবল সম্ভাবনার বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জ্বালানি সম্পদের উপস্থিতি নিশ্চিত। এ কারণে অফশোর এলাকায় কূপ খনন, খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে সেসব সম্পদ উত্তোলনের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের সামুদ্রিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতেই তিনি এ বক্তব্য দেন।

সমুদ্রসীমায় জ্বালানি সম্পদের উপস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে জ্বালানি সম্পদ রয়েছে—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান এখন স্পষ্ট। তার মতে, অতীতের বিভিন্ন নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি না হওয়ায় সম্ভাবনাময় খাতটি প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বঙ্গোপসাগরের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে নতুন পরিকল্পনা

নৌমন্ত্রী জানান, সরকার অফশোর এলাকায় কূপ খননের পাশাপাশি খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো উত্তোলনের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পরও পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি

শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলের অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু সেই অর্জনের পূর্ণ সুফল এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার তাদের নিজ নিজ সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করেছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ এই খাতে পিছিয়ে রয়েছে।

মন্ত্রী মনে করেন, এখন সময় এসেছে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার।

সমুদ্র অর্থনীতি ও বন্দর ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন নৌমন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে বন্দর, নৌপথ এবং নিরাপদ নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় নেভিগেশন ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতার আলোকে এই খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নৌপথ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ

শেখ রবিউল আলম দেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব নৌপথ সচল, নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হাইড্রোগ্রাফির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথের সঠিক মানচিত্রায়ন, গভীরতা নিরূপণ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিগত কার্যক্রম প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফির প্রয়োজনীয়তাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসের তাৎপর্য

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা সামুদ্রিক ও নৌসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নৌমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ দিবস দেশের সামুদ্রিক সম্পদ, নৌসম্পদ এবং বঙ্গোপসাগরের জ্বালানি সম্পদ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এসব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অফশোর অনুসন্ধান, খনিজ সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং সম্পদ উত্তোলনের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত