এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (15)
নেতানিয়াহু তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করছে কি না খতিয়ে দেখছে কানাডা
News Photocard (6)
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
News Photocard (3)
‘নেতানিয়াহু বিশ্ব ইহুদিদের প্রতিনিধি নন’, নিউইয়র্কে বিক্ষোভ
News Photocard (19)
হুতিদের অগ্রগতিতে ট্রাম্প-সালমানের সম্পর্কে টানাপোড়েন
News Photocard (13)
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, অবিলম্বে সংস্কার চায় জি-৪

জাতিসংঘে আবারও পাকিস্তানকে দুষল ভারত

জাতিসংঘে আবারও পাকিস্তানকে দুষল ভারত, কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষিতিজ ত্যাগীর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের নীতি ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছে ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারবে না। একই সঙ্গে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনটি জেনেভায় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানকে দুষল ভারত: অর্থনীতি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বক্তব্য

মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আনেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানের অর্থনীতি নানা সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের অর্থনীতি ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতীয় কূটনীতিকের বক্তব্যে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাটকীয়তা তৈরি করে বা অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। তাঁর মতে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি কার্যকর হবে।

ক্ষিতিজ ত্যাগী অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন বন্ধ না করলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ

ভারতের বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি। ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, গত জুন মাস থেকে ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করছেন। তাঁর দাবি, এসব বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বহু নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদকারীদের দমন করতে ইসলামাবাদ সরকার ওই অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে সেখানে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের একই অধিবেশনে পাকিস্তান-প্রশাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য বক্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের অধিবেশনের নথিতে জুন ২০২৬ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা, আটক ও অন্যান্য অভিযোগের কথা বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বক্তা ও সংগঠনগুলোর বক্তব্য হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ক্ষিতিজ ত্যাগী। তিনি বলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানায় দিল্লি।

ভারতীয় কূটনীতিক নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকেও তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। এ ঘটনার পেছনে পাকিস্তানকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশ করিয়েছে।

ক্ষিতিজ ত্যাগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের বহু কাশ্মীরি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করছে, সেই পাকিস্তান কীভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলছে। তাঁর বক্তব্যে বিষয়টিকে পরিহাসজনক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরবিরোধী। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক পোর্টালও উল্লেখ করে যে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এখনো সম্মত হয়নি।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের চিঠি প্রত্যাখ্যান দিল্লির

মানবাধিকার পরিষদে ক্ষিতিজ ত্যাগীর বক্তব্যের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

নতুন দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠি প্রত্যাখ্যান করেন। চিঠিটি ছিল সিন্ধু পানি চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের একটি কথিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে।

জয়সওয়ালের অভিযোগ, পাকিস্তান ওই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে জাতিসংঘের কাছে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সত্যকে বিকৃত করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রচার চালানো পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, পাকিস্তান যে সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে, সেটি কোনো বৈধ আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত কাঠামোর সিদ্ধান্ত।

সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধের বিষয়টি এভাবেই নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে কাশ্মীর আবার আলোচনায়

সাম্প্রতিক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক অভিযোগ আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মানবিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বক্তব্য ও অভিযোগ উপস্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনের বিভিন্ন বক্তব্যে পাকিস্তান-প্রশাসিত কাশ্মীরের বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ভারত-প্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নয়, বরং মানবাধিকার পরিষদের আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে।

ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে—পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অভিযোগ এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি। এর পাশাপাশি সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের জাতিসংঘে পাঠানো চিঠির বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়েছে দিল্লি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ও সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার ইস্যুগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো নিজ নিজ পক্ষের অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত