রোনালদো চাইলে দলে ফিরতে পারেন এটা এখন তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর। পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুস দরজা খোলা রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
পর্তুগালের জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুস জানিয়েছেন, রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা এখনো সম্ভব এবং দলের দরজা তাঁর জন্য খোলা রয়েছে। ৪ অক্টোবর রাতে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২–১ গোলের জয়ের পর রোনালদোর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোচ জানান, পরবর্তী দল ঘোষণার আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। এই ঘটনাকে ঘিরে তাঁর জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও জেসুস স্পষ্ট করেছেন, পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর পথ এখনো বন্ধ হয়নি।
রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে কোচের অবস্থান

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হোর্হে জেসুস রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোনালদো চাইলে আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন।
জেসুস বলেন, রোনালদো চাইলে জাতীয় দলে ফিরবেন। পরবর্তীবার দল ঘোষণার আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে।
কোচের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে পর্তুগাল দলের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং রোনালদোর নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পর্তুগালের জন্য রোনালদোর গুরুত্বের কথাও আবার তুলে ধরেছেন জেসুস। তিনি জানান, প্রথমবার দল ঘোষণার সময়ও তিনি রোনালদোকে বলেছিলেন, তাঁকে দলের প্রয়োজন। তিনি খেলুন বা না খেলুন, তাঁকে দলের সঙ্গে থাকতে চান কোচ।
রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা প্রসঙ্গে জেসুসের এই অবস্থান তাই একদিকে যেমন তাঁর জন্য দরজা খোলা রাখছে, অন্যদিকে সিদ্ধান্তের দায়িত্বও রোনালদোর ওপর রাখছে।
ক্যাম্প ছাড়ার আগে কী ঘটেছিল
ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেই ম্যাচে রোনালদো বদলি হিসেবে বেঞ্চে ছিলেন। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি একাদশে থাকবেন না—এমনটা জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান তিনি।
এরপর ৪ অক্টোবর রাতে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে পর্তুগাল। ম্যাচে ২–১ গোলের জয় তুলে নিয়ে দলটি উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি। সেই প্রসঙ্গেই জেসুস তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, রোনালদো চাইলে আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোচ রোনালদোর ফিরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। বরং পরবর্তী দল ঘোষণার আগে দুজনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
রোনালদোর ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্তও তাঁর
হোর্হে জেসুস শুধু রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে কথা বলেননি, জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সময় কীভাবে শেষ হবে সেটিও রোনালদোর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
পর্তুগাল কোচের বক্তব্যের অর্থ হলো, রোনালদো জাতীয় দলের অধ্যায় কোনভাবে শেষ করতে চান, সেটি নির্ধারণের অধিকার তাঁর নিজের। কোচ এ ক্ষেত্রে নিজের কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলেননি।
জেসুসের মতে, ক্রিশ্চিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা তাঁর নিজের ইচ্ছামতো শেষ হওয়া উচিত। তিনি কীভাবে সেই অধ্যায় শেষ করতে চান, সেই সিদ্ধান্তও তাঁকেই নিতে হবে।
এই বক্তব্যে রোনালদোর জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে। ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হলেও কোচের বক্তব্যে অবসরের কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা নেই।
পর্তুগালের জন্য রোনালদো এখনো গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে জেসুসের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। পর্তুগালের কোচ জানান, দল ঘোষণার শুরু থেকেই তিনি রোনালদোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
জেসুস বলেন, তিনি রোনালদোকে আগে বলেছিলেন, ‘আমার তোমাকে দরকার।’ শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, তিনি খেলুন কিংবা না খেলুন, তাঁকে দলের সঙ্গে রাখতে চেয়েছেন। কোচের দাবি, তাঁর সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।
অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতিতেও জেসুস রোনালদোকে পর্তুগাল দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে খেলবেন কি না এবং জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবেন কি না—এই সিদ্ধান্তে রোনালদোর ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব থেকে পর্তুগাল—জেসুস ও রোনালদোর নতুন অধ্যায়
হোর্হে জেসুস ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্পর্ক একেবারে নতুন নয়। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করেছেন জেসুস।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেন জেসুস। এরপর এবারের ফিফা উইন্ডোতে দুজনের মধ্যে নতুন অধ্যায় শুরু হয় জাতীয় দলের পর্যায়ে।
ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জেসুস রোনালদোকে একাদশে রাখেন। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে একাদশে না থাকার বিষয়টি জানতে পেরে রোনালদো ক্যাম্প ছেড়ে যান।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর পরই রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কোচের বক্তব্য সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
সামনে কী হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতিতে রোনালদোর জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। হোর্হে জেসুস স্পষ্ট করেছেন, পরবর্তী দল ঘোষণার আগে রোনালদোর সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেটি রোনালদোকেই ঠিক করতে হবে। একইভাবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সময় কীভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্তও তাঁর নিজের বলে মনে করেন জেসুস।
ফলে ক্যাম্প ছাড়ার পরও রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং কোচের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, পর্তুগাল তাঁকে স্বাগত জানানোর অবস্থানেই রয়েছে।
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর ভূমিকা এবং দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সামনে কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা নির্ভর করছে রোনালদোর নিজের ইচ্ছার ওপর।
পর্তুগালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর
নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগাল উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যেই রোনালদোকে ঘিরে জাতীয় দলের পরিস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কোচ হোর্হে জেসুসের বক্তব্য আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—জাতীয় দলের দরজা রোনালদোর জন্য খোলা। তবে সেই দরজা দিয়ে তিনি আবার প্রবেশ করবেন কি না, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁর নিজের।
রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা তাই এখন আর শুধু কোচের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। পর্তুগালের কোচ অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে জাতীয় দলের সমর্থকরাও।





