এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
স্কুলে ৩ শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ১৪ বছরের সন্দেহভাজন আটক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
স্বাধীন ফিলিস্তিন ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
গোপনে মস্কো সফরে কেন সিআইএ প্রধান, যা বললেন ট্রাম্প
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজ, কোন দেশের কত জন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
কেন এতো পর্যটক ছিল নেপালের ওই এলাকায়

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ ঘোষণা ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ ঘোষণা ট্রাম্পের,  ১৭টি তেলক্ষেত্রে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত, ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে দেশে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ব্যাপক ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র তেল চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার বিপুল অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে এবং দেশটির তেল খাতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছান।

ভেনেজুয়েলার সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব ক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির ফলে দেশটির তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব হিসেবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

চুক্তিতে ১৭টি তেলক্ষেত্র ও ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত

ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিত তেল মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল।

চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার পুরোনো তেল অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তবায়ন কত দ্রুত হবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি দেশটির অর্থনীতি ও পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন কোম্পানি গঠনের সুযোগ

চুক্তি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই কোম্পানি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব নেবে।

ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের সরকার নতুন কোম্পানিটিকে তেলক্ষেত্রগুলো উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে।

চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর চাপ

ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র তেল চুক্তি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।

একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।

এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অংশীদারত্বকে জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তি ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমে যাবে—এমন প্রত্যাশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

তেল উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে দেশটির পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে। এই কাজের জন্য কয়েক বছর সময় এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ, চুক্তিটি বড় পরিসরের হলেও এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা নাও যেতে পারে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রথমে তেলক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করতে হবে।

এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বল্পমেয়াদে পেট্রোলের দামের ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে।

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতের দেশ। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এটি বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ।

তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক তেল উৎপাদনে ভেনেজুয়েলার অবদান বর্তমানে প্রায় ১ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ দেশটির দুর্বল ও জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো।

এই বাস্তবতাই নতুন চুক্তির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিপুল মজুতকে কার্যকর উৎপাদনে রূপান্তর করতে বড় আকারের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন।

ট্রাম্পের দাবি, এটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল চুক্তি

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে চুক্তিটিকে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ঘোষণায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণের কথা উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার চুক্তির আর্থিক সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারের হিসাবে, তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে এবং কর হিসেবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে চুক্তিটির প্রভাব শুধু তেল উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও এর ভূমিকা থাকতে পারে বলে দেশটির সরকার আশা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জন্য সম্ভাব্য প্রভাব

চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুতের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিনের দুর্বল তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় ধরনের বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।

মার্কো রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

তবে চুক্তির বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল কত দ্রুত পাওয়া যাবে, সেটি নির্ভর করবে তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির গতির ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কাজে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র তেল চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। চুক্তির আওতায় ১৭টি তেলক্ষেত্র এবং প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত মজুত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্বের সম্ভাবনা দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল তেল মজুতে নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে চুক্তির ঘোষণার পরপরই জ্বালানির দাম কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে অবকাঠামো সংস্কার ও বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তাই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি প্রভাব মূল্যায়নে বাস্তবায়নের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত