এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image
ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রশংসায় ট্রাম্প
News Photocard (45)
ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
News Photocard (42)
মক্কা-মদিনায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, হামলার দাবি অস্বীকার হুতির
News Photocard (18)
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই, জেলেনস্কিকে কটাক্ষ
News Photocard (9)
কানাডায় সামরিক মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ সেনা সদস্য নিহত

ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে

ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে, ইসরায়েলের নির্বাচন ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্সিট পোলে নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট কেউই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। সরকার গঠনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

ইসরায়েলের নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাতে প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কেউই ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই। জেরুজালেমে নেতানিয়াহু এবং তেল আবিবে আইজেনকোট নিজ নিজ সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দিলেও কেউ সরাসরি বিজয় ঘোষণা করেননি। ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারের ভাগ্য।

ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল—চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৮ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবিরের দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভাজন থাকায় এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের রাজনীতিতে জোট গঠনের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলই যে সরকার গঠন করবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং কোন প্রার্থী ৬১ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করে কার্যকর সরকার গঠন করতে পারবেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট বড় ধাক্কার মুখে

চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর এক্সিট পোল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। বিদায়ী নেসেটে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। সেই হিসাবে নতুন নির্বাচনে জোটটির আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এখনো একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পারে। তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে দলটির আসনসংখ্যা ২৫ থেকে ২৭টির মধ্যে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুপন্থী চ্যানেল ১৪-এর এক্সিট পোল তুলনামূলকভাবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ওই চ্যানেলের পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোটের মোট আসন ৬০ এবং লিকুদ পার্টির একক আসন ৩০ হতে পারে বলে দেখানো হয়েছে।

তবে এক্সিট পোল চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ভোট গণনা চলার সঙ্গে সঙ্গে আসনসংখ্যার হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই কি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন নেতানিয়াহু?

লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও নেতানিয়াহুর জন্য সরকার গঠন সহজ হবে না। ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে হলে তাঁকে অন্য দলের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—লিকুদ ইসরায়েলের বৃহত্তম দল এবং ইহুদি ও জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থী জোটের সমর্থন রয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েলের একটি শক্তিশালী জাতীয় ডানপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতাও উঠে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, যেসব আরব দল জায়নবাদের বিরোধিতা করে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। হামাস সম্পর্কে ওই দলগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলার বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

তবে এসব বক্তব্যের পরও নেতানিয়াহু সরাসরি বিজয় দাবি করেননি। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল এবং সম্ভাব্য জোটের সমীকরণের ওপর।

গাদি আইজেনকোটের সামনে পরিবর্তনের সুযোগ, কিন্তু জোটে বাধা

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি বিরোধী শিবিরের বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পারে। চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাসে দলটির আসনসংখ্যা ২১ থেকে ২৩টির মধ্যে থাকতে পারে।

ইসরায়েলের সাবেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আইজেনকোট তেল আবিবে নিজের নির্বাচনী সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও দাবি করেন, ইসরায়েলের জনগণ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

আইজেনকোট বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত বর্তমান জোট মানুষের আস্থা হারিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণ নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার বিরোধিতা করেছেন।

গাজায় যুদ্ধে নিজের ছেলেকে হারানো আইজেনকোট আরও বলেন, একজন যোগ্য নেতার উচিত জনগণের অনাস্থার বার্তা গ্রহণ করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া।

তবে আইজেনকোটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৮ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস থাকলেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়।

বিরোধী শিবিরে ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও বামপন্থী দল রয়েছে। পাশাপাশি ইহুদি ও আরব দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পার্থক্যও জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

আরব দলগুলোর সমর্থন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁর নিজের রাজনৈতিক শর্ত এবং বিরোধী জোটের অন্য নেতাদের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আইজেনকোট সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের জন্য কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হামাসকে এমন একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যাকে বিলুপ্ত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ আরব আইনপ্রণেতার পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বিরোধী শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের সঙ্গে সমঝোতা নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া আইজেনকোটের দুই বিরোধী মিত্র আভিগদর লিবারম্যান ও নাফতালি বেনেট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

এই অবস্থায় নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ঐক্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আরব ভোটারদের অংশগ্রহণে নির্বাচনে নতুন সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের পর ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ভোটদানের হার অন্তত ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশটির আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটদানের হার বৃদ্ধিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি ইসরায়েলিদের তুলনায় আরব জনগোষ্ঠীর ভোটদানের হার কম ছিল। তবে এবার আরব দলগুলো জানিয়েছে, তাদের সম্প্রদায়ের ভোটার উপস্থিতি ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আকাঙ্ক্ষা এই জনগোষ্ঠীর ভোটদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোটে কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মেয়াদকালে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরাধ ও হত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের আসন বাড়ার সম্ভাবনা

আরব রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট এবং রা’আম সম্মিলিতভাবে ১৭ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এই ফল নিশ্চিত হলে দল দুটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী অবস্থান অর্জন করতে পারে।

নাজারেথ শহরে জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী সদর দপ্তরে সমর্থকেরা ফলাফলের পূর্বাভাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসুফ জাবারিন বলেন, তাঁদের দল প্রমাণ করেছে যে তারা এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কণ্ঠস্বর ছাড়া দেশটির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, রা’আমের চেয়ারম্যান মনসুর আব্বাস সংবাদমাধ্যম i24news-কে বলেন, তাঁদের রেকর্ডসংখ্যক নির্বাচনী অর্জনের পেছনে বেন-গভির, স্মোট্রিচ এবং আরব সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের অবহেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরব দলগুলোর এই সম্ভাব্য সাফল্য একদিকে নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ কঠিন করতে পারে, অন্যদিকে আইজেনকোটের জন্যও জোট গঠনের সমীকরণ জটিল করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কী?

ইসরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়িত হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।

জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এসব বৈঠকে প্রতিটি দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।

এরপর প্রেসিডেন্ট নিজের বিবেচনায় এমন একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যিনি ৬১ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাবেন, তা নিশ্চিত নয়। বরং নির্বাচিত দলগুলোর সুপারিশ এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর মনোনীত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন, বাজেটের অগ্রাধিকার এবং নীতিগত প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

সরকার গঠনে ২৮ দিন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তিনি আরও ১৪ দিনের সময় পেতে পারেন।

এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নেসেটের সামনে বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নের জন্য সীমিত সময় থাকবে।

সেই প্রক্রিয়াতেও সমাধান না এলে দেশটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরেকটি নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কেউই নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা রয়েছে।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে ঐক্য সরকার কি সম্ভব?

রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে প্রেসিডেন্ট হারজগ নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে একটি ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন। দেশটির দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে আনার চেষ্টা একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এ ধরনের সমঝোতা বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর অতীতে রাজনৈতিক সমঝোতায় যুক্ত হওয়া নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার নজির রয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোট স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে বসার বিরোধিতা করেছেন।

ফলে দুই নেতার মধ্যে ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত এবং দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা—এই তিনটি বিষয়ই পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে ইসরায়েলের রাজনীতিতে?

ইসরায়েলের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের জন্যই নিশ্চিত বিজয়ের চিত্র পাওয়া যায়নি। একদিকে লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার সম্ভাবনা ধরে রেখেছে, অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।

কিন্তু বেশি আসন পাওয়া এবং কার্যকর সরকার গঠন করা দুটি আলাদা বিষয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আরব দলগুলোর ভূমিকা, আইজেনকোটের রাজনৈতিক শর্ত এবং লিবারম্যান ও বেনেটের অবস্থান সরকার গঠনের আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোটকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে। চ্যানেল ১৪-এর পূর্বাভাসে জোটটির আসনসংখ্যা ৬০ দেখানো হলেও অন্যান্য প্রধান চ্যানেলের পূর্বাভাসে তা ৫১ থেকে ৫২টির মধ্যে রয়েছে। চূড়ান্ত ভোট গণনা ছাড়া কোন হিসাব বাস্তব ফলাফলের কাছাকাছি, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায় নির্ধারিত হবে শুধু ভোটের ফল দিয়ে নয়, বরং জোট গঠনের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সর্বাধিক পঠিত