তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার। সানায়া আনামের ছবি ও লেখা দুই দিনের মধ্যে সরানোর নির্দেশ, অন্যথায় আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি।
মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার এবং সাইবার হয়রানির অভিযোগ তুলে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর পক্ষে পাঠানো এই নোটিশে তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলার জন্য দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার থেকে নোটিশটি পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে আর্থিক মানহানি এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ দেশের প্রচলিত আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সানায়া আনামকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন। এর ফলে সানায়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাঁকে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানোর কারণ কী?

আইনি নোটিশের মূল বিষয় হলো সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, লেখা এবং সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানির অভিযোগ। নোটিশে বলা হয়েছে, তানজিন নাহার তিশার ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য সানায়ার ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সানায়ার পক্ষে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ছবি ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাসের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ নোটিশে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তানজিন নাহার তিশার বক্তব্য বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য সরবরাহ করা সংবাদে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
২৭ অক্টোবরের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগ
নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সানায়া আনামকে নিয়ে কিছু ছবি ও লেখা প্রকাশ করা হয়। নোটিশদাতার অভিযোগ, এসব ছবি ও তথ্যে আপত্তিকর উপাদান ছিল এবং প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে সানায়ার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে ছবি বা বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু, প্রেক্ষাপট এবং তথ্যের যথার্থতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সেটির আইনগত দিকও বিবেচনায় আসতে পারে।
এই ঘটনায় নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের মেসেঞ্জার বার্তা নিয়ে নতুন অভিযোগ
আইনি নোটিশে শুধু ২০২৬ সালের অক্টোবরের ফেসবুক পোস্টের কথা বলা হয়নি। এতে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক মেসেঞ্জার বার্তার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ওই দিন তানজিন নাহার তিশা সানায়া আনামকে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। বার্তাটিতে বলা হয়েছিল, ‘বিখ্যাত হওয়াই যথেষ্ট, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দেব।’ মূল সংবাদে উদ্ধৃত বক্তব্যের অর্থ অনুযায়ী, সানায়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করার হুমকির অভিযোগই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সানায়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানি করা হয়।
তবে ওই বার্তার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের অন্যান্য বিবরণ কিংবা অভিযোগের বিষয়ে তিশার বক্তব্য সংবাদে দেওয়া হয়নি। তাই এ পর্যায়ে বিষয়টিকে নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পুরোনো বার্তা ও সাম্প্রতিক পোস্টের যোগসূত্র
নোটিশে ২০২৫ সালের নভেম্বরের কথিত বার্তা এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরের ফেসবুক পোস্ট—দুই সময়ের ঘটনাই উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিযোগকারী পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ ও সম্মানহানির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
তবে দুটি ঘটনার মধ্যে আইনগতভাবে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তা নোটিশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সানায়ার পেশাগত পরিচয় নিয়ে আপত্তি
নোটিশে সানায়া আনামকে ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তানজিন নাহার তিশার ফেসবুক পোস্টে দুজনকে বোন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও উপহাসের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশদাতা পক্ষের বক্তব্য, সানায়া একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পেশাগত পরিচয়ে পরিচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পোস্টে তাঁদের পরিচয়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্যক্তির পরিচয়, পেশা এবং সামাজিক অবস্থান নিয়ে অনলাইনে কোনো বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা ও উপস্থাপনার ধরন গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো বক্তব্য মানহানিকর কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট এবং প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড বিবেচনা করতে হয়।
এই ঘটনায় নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা বা আইনগত পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো সরবরাহ করা হয়নি।
ছবি প্রকাশ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গ
নোটিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের বিষয়টিকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর লঙ্ঘন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ছবি ও বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে সানায়ার ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছবি প্রকাশ, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার এবং কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে শুধু অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের অভিযোগ উঠলেই কোনো নির্দিষ্ট আইনের লঙ্ঘন প্রমাণিত হয় না। সংশ্লিষ্ট আইনটির প্রযোজ্য বিধান, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হয়।
নোটিশে আইনটির উল্লেখ থাকলেও কোন নির্দিষ্ট ধারায় কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরবরাহ করা সংবাদে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাই এ পর্যায়ে অভিযোগ ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
দুই দিনের মধ্যে পোস্ট সরানোর নির্দেশ
আইনি নোটিশে তানজিন নাহার তিশাকে নোটিশ পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নোটিশে শুধু ইতিমধ্যে প্রকাশিত কনটেন্ট সরানোর দাবি নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ড না করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশ পাওয়ার পর তিশা সংশ্লিষ্ট পোস্ট সরিয়েছেন কি না, কিংবা নোটিশের জবাব দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সংবাদে কোনো তথ্য নেই।
নির্দেশনা না মানলে কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করা হলে আর্থিক মানহানির অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ দেশের প্রচলিত আদালতে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি নোটিশদাতা পক্ষের পক্ষ থেকে জানানো সম্ভাব্য পদক্ষেপ। আইনি নোটিশ পাঠানো এবং আদালতে মামলা দায়ের করা এক বিষয় নয়। একইভাবে, নোটিশে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।
পরবর্তী সময়ে মামলা করা হলে তার ধরন, প্রযোজ্য আইন, আদালতের এখতিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগোবে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নোটিশে দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পোস্ট সরানোর নির্দেশ এবং নির্দেশনা না মানলে আদালতে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষার প্রশ্ন
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও বক্তব্য প্রকাশকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত সুনাম, পেশাগত পরিচয় এবং আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কোনো কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ভুল তথ্য বা আপত্তিকর উপস্থাপনার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের ওপর তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে, অনলাইনে প্রকাশিত কোনো বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধ তৈরি হলে অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সানায়া আনামের পক্ষে পাঠানো নোটিশে ছবি ও লেখা সরানো, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এটুকুই নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, বিষয়টি আইনি নোটিশের পর্যায়ে রয়েছে।
তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ: এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপে
২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাঠানো নোটিশে তানজিন নাহার তিশাকে দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের চেম্বার থেকে। অভিযোগকারী হিসেবে উঠে এসেছে ফ্যাশন ডিজাইনার ও নারী উদ্যোক্তা সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর নাম।
নোটিশে ২৭ অক্টোবরের ফেসবুক পোস্ট, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বরের কথিত মেসেঞ্জার বার্তা, মানহানি এবং অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আর্থিক মানহানি এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ প্রচলিত আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও রয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে নোটিশের পরবর্তী অগ্রগতি, তানজিন নাহার তিশার প্রতিক্রিয়া কিংবা কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রকাশিত হলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।





