এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (12)
শুটিং নিয়ে পরিচালকের গড়িমসি, অনিশ্চয়তায় শাকিবের ‘সোলজার’
News Photocard (19)
দীর্ঘদিন পর এক মঞ্চে ফিরছেন জেমস-হাসান
News Photocard (23)
কানাডায় সেরা অভিনেত্রী তুষি, রইদ জিতেছে তিন পুরস্কার
News Photocard (20)
প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ, কারণ জানালেন দুজন
News Photocard (14)
তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির প্রার্থী কোয়েল

সেই ফেক ভিডিও নিয়ে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন পরীমনি

পরীমনির ফেক ভিডিও নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। মাছরাঙা টেলিভিশনের দুঃখ প্রকাশে সন্তুষ্ট নন তিনি, দাবি করেছেন জবাবদিহি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১৭ অক্টোবর শনিবার দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই দায় শেষ হয় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনার প্রভাব তাঁর স্বাভাবিক জীবন, কাজ, মানসিক শান্তি এবং সন্তানদের নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় পড়েছে।

পরীমনির ফেক ভিডিও নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজে দুই তারকা অভিনেত্রীর আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও প্রকাশের পর। ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হয়েছিল এবং হ্যাকাররাই ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও পরীমনি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।

পরীমনির ফেক ভিডিও নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী

পরীমনির বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিষয়টি শুধু অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ পেজ হ্যাক হওয়ার কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে পরীমনির প্রশ্ন, পেজটি হ্যাক হয়ে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল কি না।

এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, পরীমনি সেই ব্যাখ্যা ও ঘটনার পর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি কেবল দুঃখ প্রকাশ নয়, বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চান।

তবে পেজ হ্যাক হওয়ার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এই প্রতিবেদনের সূত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেসবুক লাইভে মাছরাঙা টেলিভিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ক্ষোভের কথা জানান ‘স্বপ্নজাল’ অভিনেত্রী পরীমনি। কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা ও কটূক্তি চলার প্রতিবাদ করেন তিনি। একই সঙ্গে মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

লাইভে পরীমনি বলেন, এত বড় একটি গণমাধ্যমের পেজে ভিডিওটি প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে দৃশ্যমান ছিল বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর প্রশ্ন ছিল, এ সময়ের মধ্যে পেজটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি কেন।

তিনি বলেন, “তারা এত বড় ও ক্ষমতাশালী একটি গণমাধ্যম। ভিডিওটি ১১ ঘণ্টা ধরে ছিল। তাহলে কি তারা বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেনি, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি? আইন ও প্রশাসনের সহায়তায় কি কিছু করা সম্ভব ছিল না? এ অবস্থায় শুধু পেজ হ্যাক হওয়ার কথা বলেই দায় শেষ করা যায় না।”

নিজের পেজ হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, তিনিও চাইলে বলতে পারেন যে তাঁর পেজ হ্যাক হয়েছে।

পরীমনির এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যার পাশাপাশি ঘটনার সময়কাল ও প্রতিক্রিয়া নিয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত সময়কাল বা পেজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এই সূত্রে পাওয়া যায়নি।

ভিডিও নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ

পরীমনির ক্ষোভ শুধু ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে যাঁরা নেতিবাচক আলোচনা করেছেন, তাঁদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে অভিনেত্রী বলেন, ভিডিওটি নিয়ে অনলাইনে অতিরিক্ত মাতামাতি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলেন। তাঁর এই মন্তব্য ছিল ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা আলোচনা ও মানুষের প্রতিক্রিয়ার প্রতি ক্ষোভের প্রকাশ।

পরীমনির মতে, অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ ভিডিওটি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা করেছেন, যেন সেটিই তাঁদের অনলাইন কথাবার্তার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিজের বক্তব্যে তিনি এমন একটি ঘটনার উদাহরণও দেন, যেখানে কেউ হজসংক্রান্ত পোস্ট করলেও মন্তব্যের ঘরে পরীমনির ভিডিওর লিংক থাকার কথা বলা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ একজন মানুষের অর্জন বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের বদলে বিতর্কিত একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি ভুয়া ভিডিও নিয়ে যদি মানুষের মধ্যে এত আলোচনা হয়, তাহলে বাস্তব কোনো ঘটনা সামনে এলে পরিস্থিতি কতটা নেতিবাচক হতে পারে।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অনলাইন হয়রানি এবং বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিণতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ তুলে ধরে।

এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ভিডিও এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা

পরীমনির ফেক ভিডিওর ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত কনটেন্টের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব ব্যক্তির ছবি বা পরিচিতিকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কিংবা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের কনটেন্ট সত্যিকারের ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম, ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বস্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

এই ঘটনায় ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিডিও তৈরির পেছনে কারা ছিলেন, কীভাবে সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল কিংবা কারা প্রথম অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে, পরীমনি বলেছেন, ভিডিওটি অনেক আগে তৈরি হলেও চ্যানেলটির পেজের মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

অর্থাৎ, ভিডিওটি তৈরির সময় এবং সেটি নির্দিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার সময়—এই দুটি বিষয় আলাদা। ভিডিওটি আগে তৈরি হয়ে থাকলেও পরবর্তীতে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে নতুন করে আলোচনা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিনেত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এ ধরনের ঘটনায় কনটেন্টের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার করা, লিংক ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় কারা ভিডিওটি ছড়িয়েছেন বা কী পরিমাণ মানুষ তা শেয়ার করেছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

শনিবারের পোস্টে কী লিখলেন পরীমনি

শুক্রবারের ফেসবুক লাইভের পর শনিবার দুপুরে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেন পরীমনি। সেখানে তিনি জানান, চ্যানেলটির প্রকাশিত দুঃখ প্রকাশের বার্তা তাঁর কাছে যথেষ্ট নয়।

পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করলেই তাঁর স্বাভাবিক জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে পোস্ট করতে পারছেন না।

এমনকি তাঁর সন্তানদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা তাঁর মানসিক শান্তি ও কাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

পরীমনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “আপনাদের এই শুধু ফটোকার্ড দিয়ে দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে আসছে না। আমার স্বাভাবিক জীবন আবার দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, এর দায় আপনাদের নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু পোস্ট করতে পারছি না। আমার সন্তানদের ছবিতেও হাজার হাজার নেতিবাচক মন্তব্য আসছে। আমার মানসিক শান্তি নষ্ট হয়েছে, আমার কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

এ বক্তব্যের মাধ্যমে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে তিনি শুধু অনলাইন কনটেন্টের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। বরং এর ফলে তাঁর পরিবার, কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তাঁর অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের সংখ্যা, কাজের ক্ষতির ধরন কিংবা এসবের আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি ওই পোস্টে দেননি।

দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি

পরীমনির পোস্টে আরও উঠে এসেছে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কখন এবং কীভাবে সে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানতে চেয়েছেন, কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নের অগ্রগতি কোথায়। তাঁর ভাষায়, এ ঘটনায় তাঁর কাছে এখন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছেই জবাব চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখানে উল্লেখ্য, পরীমনি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বক্তব্য দিলেও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনের সূত্রে নেই। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পেজ হ্যাক করে হ্যাকাররা ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছে। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

পরীমনির দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ফেসবুক লাইভ সরিয়ে নিলেন অভিনেত্রী

নিজের ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরার পর পরীমনি তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে নেন। তবে কেন তিনি লাইভটি সরিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনের সূত্রে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এরপর শনিবার দুপুরে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে নতুন পোস্ট দেন তিনি। ফলে শুক্রবার রাতের লাইভ এবং শনিবারের পোস্ট—দুই ক্ষেত্রেই একই ঘটনার বিষয়ে তাঁর অসন্তোষ ও জবাবদিহির দাবি উঠে আসে।

লাইভে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা নেতিবাচক আলোচনা নিয়ে কথা বলেছেন। আর পরবর্তী পোস্টে ব্যক্তিগত জীবন, সন্তানদের নিয়ে মন্তব্য, কাজের ক্ষতি এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবায়নের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।

পরীমনির ফেক ভিডিও বিতর্কে সামনে যে প্রশ্নগুলো

পরীমনির ফেক ভিডিও নিয়ে এই বিতর্কে কয়েকটি বিষয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ কীভাবে হ্যাক হয়েছিল এবং ভিডিওগুলো প্রকাশের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, ভিডিওগুলো কে তৈরি করেছে এবং কারা সেগুলো ছড়িয়ে দিয়েছে, তা শনাক্ত করা জরুরি। তৃতীয়ত, এ ঘটনায় পরীমনি ও তাঁর সন্তানদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির প্রেক্ষাপটও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসের কথা জানা গেলেও তদন্তের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এই প্রতিবেদনের সূত্রে নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাচাই করা তথ্য ও তদন্তের ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত কনটেন্টের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপমান করে মন্তব্য করা অনলাইন হয়রানির পরিস্থিতি বাড়াতে পারে।

পরীমনির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি শুধু দুঃখ প্রকাশে সন্তুষ্ট নন; তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিজের ও পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে জবাবদিহি চান। এখন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপের তথ্য আসে কি না, সেটিই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত