তাসনিয়া ফারিণ গান শুরু করেন টেলর সুইফট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে—তার নতুন গান, প্রযোজনা পরিকল্পনা ও সিনেমায় অগ্রগতি মিলিয়ে ক্যারিয়ারে দারুণ পরিবর্তন এসেছে।
বাংলা বিনোদনজগতের জনপ্রিয় মুখ তাসনিয়া ফারিণ আবারও আলোচনায়। অভিনয় থেকে সামান্য বিরতি নিয়ে তিনি ফিরেছেন গানে—এক নতুন পরিচয় নিয়ে। আর সেই যাত্রার কেন্দ্রেই আছে তার অনুপ্রেরণা—বিশ্ব তারকা টেলর সুইফট। সাম্প্রতিক গান ‘মন গলবে না’ প্রকাশের পরই পরিষ্কার হয়েছে, সংগীতশিল্পী হিসেবে এই পথে তার অগ্রযাত্রা এখন আর এককথায় নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে পরের ধাপে এগোচ্ছে।
এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো—তাসনিয়া ফারিণ গান শুরু করেন টেলর সুইফট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে—এই কেন্দ্রীয় বিষয়কে ঘিরে তার সংগীত, অভিনয়, প্রযোজনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দারুণ ৫টি অগ্রগতি।
তাসনিয়া ফারিণ গান শুরু করেন টেলর সুইফট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে: সংগীতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
ফারিণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তার গানের প্রতি ভালোবাসা ছিল। নিয়মিত না হলেও সময় পেলেই গান করতেন। তবে সংগীতকে ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবা হয়নি কখনো। পরিবর্তন আসে স্কটল্যান্ডে টেলর সুইফটের কনসার্টে অংশ নেওয়ার পর।
তার ভাষায়—
“টেলর সুইফটকে লাইভ দেখার পর বুঝলাম, একজন শিল্পী তার মিউজিক দিয়ে কত বড় ‘ইমপ্যাক্ট’ তৈরি করতে পারে। সেই অনুভূতিই আমাকে গান করার আগ্রহে ফিরিয়ে নেয়।”
ফারিণ জানান, নতুন গান তৈরির সময় তিনি টেলর সুইফটকে অনুকরণ করেননি, বরং ক্যারিয়ার গড়ার আত্মবিশ্বাস ও মিউজিকাল স্টোরিটেলার হিসেবে নিজেকে তৈরি করা—এ দুটি জায়গায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
‘মন গলবে না’—নতুন গানে নস্টালজিয়া, গল্প আর আধুনিকতার মিশ্রণ
সম্প্রতি প্রকাশিত গান ‘মন গলবে না’ প্রমাণ করেছে তিনি শুধু অভিনেত্রী নন—সংগীতেও সম্ভাবনাময়।
এই গানে আছে—
-
আশি–নব্বই দশকের নস্টালজিক আবহ
-
আধুনিক পপ মিক্স
-
গল্পনির্ভর ভিডিও
-
বাণিজ্যিক উপাদান
গানের কথা লিখেছেন কবির বকুল, সুর–সংগীত ইমরান মাহমুদুল।
ফারিণ বলেন,
“আমাদের বাজেট ছিল সীমিত, কিন্তু আমি চেয়েছি প্রচলিত মিউজিক ভিডিওর বাইরে কিছু করতে।”
শ্রোতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। অনেকেই লিখেছেন—বাংলা মিউজিকে ফের নতুন এক ধারা নিয়ে আসছেন তিনি।

অভিনয়ে বড় লক্ষ্য—শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমা
মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ফারিণ। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
তার পরবর্তী সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’–তে তিনি তিন নায়িকার একজন।
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ।
ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শুটিং।
চরিত্র নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাননি তিনি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন—এটি তার ক্যারিয়ারের বড় ধাপ হতে চলেছে।
বড় পর্দায় যাত্রা—‘ফাতিমা’ থেকে কলকাতার চলচ্চিত্রে সফল পথচলা
টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন ফারিণ। বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয় ‘ফাতিমা’ সিনেমা দিয়ে। এরপর কলকাতার অতনু ঘোষের ‘আরো এক পৃথিবী’ এবং বাংলাদেশের ‘ইনসাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন।
ফারিণ বলেন,
“ইনসাফ–এ কাজ করে আমি নতুন অনেক কিছু শিখেছি। বড় পর্দায় স্টোরিটেলিং, স্ক্রিন প্রেজেন্স—এসব জায়গায় আরও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বুঝেছি।”
আরও জানান,
“নাচে আরও সময় দিতে হবে। কারণ সিনেমায় নাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
ওটিটি ও নাটকের গল্প—কিন্তু ফোকাস এখন সিনেমা
ওটিটির বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। নাটকে তার সর্বশেষ কাজ ‘প্রিয় প্রজাপতি’।
তবে এখন তিনি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন নতুন সিনেমার প্রস্তুতিতে।
তার ভাষায়—
“ভালো গল্প, ভালো পরিচালক হলে নাটকেও কাজ করব। কিন্তু আপাতত ‘প্রিন্স’–এর প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি।”
সাবিলা নূরের সঙ্গে এক সিনেমায় দেখা যাবে?
সাবিলা নূর এবং তাসনিয়া ফারিণ—দুজনই জনপ্রিয় মুখ। অভিনয়জীবনও প্রায় একই সময়ে শুরু। তবে এখনো একসঙ্গে কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি।
ফারিণ বলেন—
“দর্শক চাইলে অবশ্যই হবে। কোনো পরিচালক চাইলে দুজনকে একসঙ্গে দেখাতে পারি।”
দর্শকদের মধ্যে এই জুটিকে নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকায় নির্মাতারা শিগগিরই নতুন কোনো ঘোষণা দিতে পারেন—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান—আরও বড় পরিকল্পনায় ফারিণ
নতুন গান ‘মন গলবে না’ শুধু তার সংগীতে ফেরা নয়—এটি তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম কাজ।
এই প্রতিষ্ঠান দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে—
-
নাটক
-
সিনেমা
-
মিউজিক ভিডিও
এ তিন ক্ষেত্রেই কাজ করতে চান, তবে কোনটি আগে হবে—এ সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
তার ভাষায়—
“আমি চাই নিজের মতো করে গল্প বানাতে। সময়মতো সবকিছু জানাতে চাই।”




