চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে উঠে গেল দাপুটে জয়ে। নোয়াখালীকে হারিয়ে বিপিএলে নাটকীয় ম্যাচে মেহেদী-আসিফের নেতৃত্বে বড় সাফল্য।
চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে উঠে গেল বিপিএল ২০২৬-এর পয়েন্ট টেবিলে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বিদায় করে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে দলটি। ম্যাচজুড়ে নাটকীয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শেখ মেহেদীর নেতৃত্বে ৫ উইকেটের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।
এই জয়ের ফলে শুধু দুই পয়েন্টই নয়, বরং নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। অন্যদিকে এই হারের মধ্য দিয়ে বিপিএল থেকে ছিটকে গেল নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
শরীফুল ইসলামের আগুনে পেসে নোয়াখালীর ধস

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে ইনিংসের মাঝপথে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ছন্দ হারায় দলটি। শুরুতে অধিনায়ক শেখ মেহেদীর পরিকল্পিত বোলিং চাপ তৈরি করলেও আসল ধ্বংসযজ্ঞ চালান বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম।
শরীফুল ইসলামের পেস তোপে মাত্র ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েন শরীফুল।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে আবু হায়দার রনির—যিনি ১২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। বিপিএলের সর্বনিম্ন রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড অবশ্য এখনও পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামির দখলে, ৬ রানে।
নোয়াখালীর ছয়জন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেও সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন ওপেনার হাসান ইসাখিল। বড় ইনিংসের অভাবে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে ওঠার পথে ব্যাটিং ধস ও ঘুরে দাঁড়ানো
১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপাকে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ২৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় দলটি। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় চাপ বাড়তে থাকে।
পরে আরও একটি উইকেট হারালেও পরিস্থিতি সামাল দেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন তিনি।
মেহেদী–আসিফের ৫৯ রানের জুটি
ষষ্ঠ উইকেটে শেখ মেহেদী ও পাকিস্তানি ব্যাটার আসিফ আলির জুটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। দুজনে মিলে ৫৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
মেহেদী খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ রান করেন তিনি। অল্পের জন্য বিপিএলের প্রথম ফিফটি মিস করলেও তার ইনিংস ছিল ম্যাচ নির্ধারণী। অন্যদিকে আসিফ আলি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে, যেখানে ছিল সমান ২টি চার ও ছক্কা।
শেষ ওভারে ইহসানউল্লাহকে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন মেহেদী। হাতে তখনও ১৮ বল বাকি। যদিও এক রানের আক্ষেপ থেকে যায় অধিনায়কের।
নোয়াখালীর বোলিংয়ে ইহসানউল্লাহর লড়াই
নোয়াখালীর হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন পাকিস্তানের পেসার ইহসানউল্লাহ। শুরুতে তার বোলিং কিছুটা চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত মেহেদী–আসিফ জুটির সামনে তা যথেষ্ট ছিল না।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস
এই হারের ফলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল যাত্রা শেষ হয়ে গেল। ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। এমনকি শেষ ম্যাচে রংপুরকে হারালেও শেষ চারে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
নবাগত দল হিসেবে কিছু ম্যাচে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখালেও ধারাবাহিকতার অভাবই তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র
এই জয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স—দু’দলেরই পয়েন্ট এখন ১২। তবে উন্নত নেট রানরেটের কারণে চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে অবস্থান করছে।
প্লে-অফের আগে এই অবস্থান ধরে রাখা চট্টগ্রামের জন্য বড় মনোবল জোগাবে।
এই ম্যাচ প্রমাণ করে দিয়েছে যে চাপের মুহূর্তে নেতৃত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শরীফুল ইসলামের আগুনে বোলিং ও শেখ মেহেদীর ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে উঠে টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের বার্তা দিল। বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলোতে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শিরোপার পথে চট্টগ্রামই হতে পারে সবচেয়ে বড় দাবিদার।




